সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বর্ণনায় উঠে এসেছে এক তরুণ দম্পতির বিয়ে ভেঙে যাওয়ার করুণ কাহিনী। 'অপু' নামে পরিচিত এক তরুণ (ছদ্মনাম) তার ভাষ্যমতে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি এক তরুণীর ছবি দেখে আকৃষ্ট হন। তাকে তিনি 'শিশির' নামে অভিহিত করেন। খুব দ্রুতই তাদের বিয়ে ঠিক হয়, যেখানে অপু'র বাবার আর্থিক বিচারবুদ্ধি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অপু তার বর্ণনায় জানিয়েছেন, তার বাপ মনে করতেন কনের বয়স বেশি হওয়ায় তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো হবে, তাই বিয়েতে তড়িঘড়ি সম্মতি দেন।

বিয়ের পর শিশির যৌথ পরিবারের সদস্য হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরল ও স্বতঃস্ফূর্ত, চাটুকারিতা বা কুৎসা রটনার ধার ধারতেন না। অন্যদিকে অপু'র পরিবার ছিল ভণ্ডামি আর মানসিক অত্যাচারে পারদর্শী। সমস্যার সূত্রপাত ঘটে যখন শিশির বিনা দ্বিধায় জানিয়ে দেন যে তার প্রকৃত বয়স ১৭ বছর। অপু'র মা ও পিসিরা এতে প্রচণ্ড রেগে যান। তাদের সমাজে ১৭ বছরের অবিবাহিত মেয়েকে 'মেয়াদোত্তীর্ণ' বলে গণ্য করা হতো। এরপর তারা শিশিরকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন।

এরই মাঝে অর্থ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। অপু'র বাবা চেয়েছিলেন তার শ্বশুরের জমানো টাকা তার নিজের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ুক। কিন্তু শ্বশুরমশাই অবসরের পর সেটি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে শিশিরের নামে পাঠান। এতে অপু'র বাবার অহংকারে আঘাত লেগে তিনি সমস্ত টাকা ফেরত দিয়ে দেন। নিজের বাবার প্রতি এই অপমানে শিশির সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন।

এই পুরো সময়টায় অপু কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে তিনি একজন 'বুকাসুকা আশরাফুল' - অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও দুর্বল ব্যক্তি। তিনি স্ত্রীকে ভালোবাসলেও পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস দেখাননি। ধীরে ধীরে শিশিরের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। পরিবার তাকে প্রকৃত চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে লোকদেখানো কবিরাজি চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকে। শেষমেষ ভোরের শিশিরের মতোই শিশিরও সেই বিষাক্ত পরিবেশের চাপে চিরতরে বিদায় নেয়।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে স্বামীর দুর্বলতা ও পরিবারের অত্যাচারকে দায়ী করছেন। এই কাহিনী সমাজের সেই অংশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য ও সুখের চেয়ে অর্থ ও সামাজিক রীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপু তার বিবরণ শেষ করেছেন এ বলে যে, সমাজের অচল নিয়ম ও টক্সিক অহংকার জিতেছে, আর তিনি রয়ে গেছেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ একজন মানুষ।