যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সেন্টার ফর সোসাইটি অ্যান্ড কালচার (সিএসসি)’ বা সমাজ-সংস্কৃতি কেন্দ্র। এটি একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও গবেষণা-উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ‘৩৬ জুলাই: দৃঢ়তায় প্রজ্বলিত, ভবিষ্যতের জন্য একতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সোমবার সংগঠনটির পরিচালক মুনা হাফসার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সিএসসির পাশাপাশি জুলাই হাউস, ব্যান্ড, সেভ বাংলাদেশ, সোচ্চার এবং দ্য বেঙ্গল কাউন্সিলের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও প্রবাসী নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটি ছিল দুই পর্বে বিভক্ত—প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা, আর দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাংলাদেশপন্থী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘জুলাই রেকর্ডস’-এর চেয়ারম্যান কাজী ওয়ালি উল্লাহ বলেন, আন্দোলনের মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মত প্রকাশ করেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ রাব্বির বোন মিম আক্তার এবং দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন সিএসসির পরিচালক মুনা হাফসা এবং প্রধান সদস্য রেদওয়ান হোসেন তালুকদার। তাঁরা বাংলাদেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক উদ্যোগের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধারণ করে দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।