আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে সংঘটিত গুম ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আজ সোমবার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) তারেক সাঈদ মোহাম্মাদকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানিয়েছেন, কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন কবিরকে গুম করার অভিযোগে করা মামলায় এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, ওই দুই ভুক্তভোগী আজও নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এছাড়া লক্ষ্মীপুরের যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বাবুল, আবদুল মান্নান ও জহিরুল ইসলাম সুমনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বিএনপির আরেক কর্মী বেল্লাল হোসেনকে গুম করার অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও জিয়াউল ও তারেক সাঈদকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলার শুনানিতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ফলে দুটি মামলাতেই একই রকম আদেশ পেলেন আসামিরা।
প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ শাসনামলে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের মধ্য দিয়ে গণহারে গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা জাগল।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের যে ধারা শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। ট্রাইব্যুনালের এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করার পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।




