দৈনন্দিন জীবনে পথ চলার সময় অসাবধানতার কারণে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা অনেকেরই মনে থাকার কথা। এক শিশু মায়ের সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক গর্তে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল। অন্যদিকে, পানি জমে থাকা রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক মা আর ফিরতে পারেননি তাঁর সন্তানদের কাছে। এ ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ সাময়িকভাবে আমাদের ব্যথিত করলেও, সময়ের পরিক্রমায় বিস্মৃতির আড়ালে চলে যায়। তবু যিনি আপনজন হারান, তাঁর জীবনে থেকে যায় সারাজীবনের দুর্বহ যন্ত্রণা।

রাস্তায় থাকা ছোটখাটো গর্তও হতে পারে বড় বিপদের কারণ। ধরা যাক, আপনার রোজকার পথের একটি ছোট গর্তের সঙ্গে এতটাই পরিচিতি জন্মেছে যে সেটিকে পথের অংশই মনে হয়। আশপাশের সবাই জানেন কোন জায়গায় পা ফেলতে হয়। কিন্তু একদিন তাড়াহুড়ায় ছুটতে গিয়ে হুট করে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনো বয়সী মানুষের। গভীর গর্তের ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকতে পারে, জমতে পারে বিষাক্ত গ্যাস বা পানি। অর্থাৎ, সরল একটি গর্তই ভয়াবহ মৃত্যুকূপে পরিণত হতে পারে। এমনকি বাতাস বা পানিজনিত কোনো সমস্যা না থাকলেও, গর্তে পড়ে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, বিভিন্ন হাড় ও লিভারের মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সাংঘাতিক আঘাত লাগতে পারে। আঘাত বা রক্তক্ষরণ থেকে মৃত্যু ঘটতে পারে, আর বেঁচে ফিরলেও ভয়ানক আঘাত জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।

শুধু গভীর গর্ত নয়, পথে লুকিয়ে আছে আরও নানা ফাঁদ। রাস্তায় জমে থাকা পানির নিচে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার থাকলে সেই পানিতে পা দিলে নিমেষে মৃত্যু হতে পারে। নির্মাণাধীন ভবন থেকে হুট করে মাথার ওপর ভারী কোনো বস্তু পড়তে পারে। রোদ ঝলমলে দিনেও ট্রাফিক আইন অমান্যকারী বেপরোয়া মোটরসাইকেল আরোহীর ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়া সম্ভব।

এতসব বিপদের মধ্যেও আমরা প্রায়ই নিজেদের জীবনে সতর্কতা অবলম্বন করি না। হাঁটার সময় বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা, হেডফোনে গান শোনা, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার কিংবা শ্বাসরুদ্ধকর তাড়াহুড়ো—এসবই অসতর্কতার উদাহরণ। অথচ জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই, সুস্থতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই চেনা বা অচেনা যেকোনো পথে চলার সময় সতর্ক থাকা আবশ্যক। পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে রওনা দেওয়া, ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা না পার হওয়া এবং সঙ্গে থাকা শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নিজের পরিচিত এলাকায় খানাখন্দ, বিপজ্জনক গর্ত, বৈদ্যুতিক তার বা পিচ্ছিল আবর্জনা দেখলে সামাজিক উদ্যোগে সমাধান খোঁজা এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।