নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। আখখেতের আড়ালে গড়ে ওঠা একটি গোপন মাদক উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ ধ্বংস করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলে এই অভিযান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দিয়ারপাড়া গ্রামে মাদকের কারবার চলছিল। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। অবশেষে তারা নিজেরাই মাদক নির্মূলে নামেন। গ্রামের অন্তত পাঁচজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা থেকে পুরো গ্রামজুড়ে মাদকের সন্ধান চালানো হয়। এ সময় আখখেতের ভেতরে মদ তৈরির গোপন স্থানের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটিতে গর্ত করে প্লাস্টিকের ড্রাম পুঁতে রাখা ছিল। এসব ড্রামে চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ—জাওয়া ও চুয়ানি—সংরক্ষণ করা ছিল।

অভিযানে অংশ নেওয়া মিন্টু রহমান জানান, প্রশাসনের নিকট বারবার নিবেদন করেও মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে শুধু গ্রামের নয়, আশপাশের এলাকার লোকজনও এখানে মাদক সেবন করতে আসতেন। পরে গ্রামের চৌকিদারকে সঙ্গে নিয়ে তারা নিজেরাই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন। গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা চোলাই মদ উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে ড্রামগুলো ভেঙে ফেলা হয়। পরে গ্রামের আরও ১০টি স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা চোলাই মদের জারকিন ধ্বংস করা হয়।

মিন্টু রহমান আরও বলেন, তারা মাটিতে পুঁতে রাখা ৫২টি প্লাস্টিকের ড্রামে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সব ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এখানে আর কেউ মদ তৈরি করতে পারবে না।

গ্রামবাসীর এই তৎপরতার খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা। গ্রাম পুলিশের সদস্য রেজাউল করিম জানান, এর আগে মাদক কারবারিদের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। মদের ব্যবসা আরও বাড়ছিল। তাই গ্রামের লোকজন সরাসরি অভিযান শুরু করে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইফতে খায়ের আলম বলেন, শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক আন্দোলন জরুরি। মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামের মানুষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওই ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।