রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় পরিবারিক কলহের এক ভয়াবহ পরিণতি ঘটেছে। মাত্র সাত মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে তার নিজের বাবাই আছাড় মেরে হত্যা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যার দিকে তুরাগ থানাধীন ফুলবাড়িয়া বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি বস্তিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ শিশুটির বাবা কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি পেশায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক।

শিশুটির মা লিমা বেগম বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সাংবাদিকদের জানান, কবির নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ঠিকমতো কাজে যেতেন না। সংসারে নিত্য অভাব-অনটন থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ছোটখাটো কারণে কবির লিমাকে মারধর করতেন। বুধবার বিকেলেও লিমার ওপর নির্যাতন চালানো হলে তিনি সন্তানকে নিয়ে পাশের বাড়িতে নিজের বাবার কাছে চলে যান। সন্ধ্যায় কবির সেখানে গিয়ে পুনরায় লিমার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে তাকে নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হন। কিন্তু পথে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে কবির স্ত্রীর কোল থেকে শিশু রাফা মনিকে ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় সজোরে আছাড় মেরে ফেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রাফা মনিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক মর্গ এলাকায় লিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বারবার বলতে থাকেন, 'রাফা মনিকে ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচব!'।

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার রাতেই কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কবির স্বীকার করেছেন যে, স্ত্রীর ওপর রাগের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজের একমাত্র কন্যাশিশুটিকে আছাড় মেরেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।