চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ছোট জা তার বড় জাকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমাইয়া আক্তার নামের ওই নারী নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। নিহত রিগান আক্তার (২৬) শাহরাস্তি পৌরসভার বাত্তলা ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। বুধবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহতের পিতা কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হন। সন্দেহের ভিত্তিতে সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তিনি ইফতেহার আলমের (রিফাত) স্ত্রী এবং একই বাড়িতে বসবাস করতেন। জবানবন্দিতে সুমাইয়া জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে রিগানের সাথে তার তীব্র ঝগড়া হয়। পারিবারিক হিংসা, বিবাদ ও কলহের জেরেই এই সংঘর্ষ শুরু হয় বলে তিনি দাবি করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে তিনি রিগানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে তিনি পরিবার ও প্রতিবেশীদের বোঝান যে ডাকাতেরা হামলা চালিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল ও ঘরের অবস্থা দেখার পরই তারা বুঝতে পারেন এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। তবে হত্যার পেছনে তেমন কোনো গুরুতর কারণ ছিল না বলে জানান তিনি। নিজেদের মধ্যে সামান্য কারণে পরস্পরের হিংসা-বিবাদ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে, যা পরিবারের কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি। পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়।