স্টুডেন্ট ভিসার আশ্বাসে ৯২ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় সোয়া আট কোটি টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের চার সদস্যকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ভাটারা থানার মামলায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এই প্রতারণা কাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, যিনি মো. মতিউর রহমান নামেও পরিচিত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিল্লাল ভূঁইয়া মতিউর রহমান, রাবেয়া খাতুন তানিয়া ও সাইদুর রহমান—এই তিনজনকে আদালতে তোলেন এবং প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ডের প্রার্থনা জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন আসামিরই পাঁচ দিন করে রিমান্ড অনুমোদন করেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার অপর আসামি তানজির ইসলামের জন্য পাঁচ দিনের আবেদন করা হলে তার ক্ষেত্রে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এজহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি ও ‘ভিসা গাইড’–এর পরিচালক মাশায়ের রহমানকে পৃথকভাবে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তা লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. কামাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ‘ভিসা গাইড’ এবং ‘জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট’ নামের দুই সংস্থা চার মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা কাউকে বিদেশে প্রেরণ করেনি। দুই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধাপে ৯২ জনের কাছ থেকে সর্বমোট ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মিথ্যা আশ্বাসে তাদের ঘুরিয়ে অবশেষে পুরো অর্থই আত্মসাৎ করা হয়। গত ৮ জুলাই আল-আমিন নামের এক ভুক্তভোগী ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে ভাটারা থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা শুনানি শেষে গণমাধ্যমকে জানান, এই জালিয়াতির ফলে বহু শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। তারা বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করেও বিদেশ যেতে পারেননি, এবং তাদের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।
এদিকে, আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। নিচতলায় অবস্থানরত ক্ষিপ্ত শিক্ষার্থীরা পুলিশের ঘেরাটোপে থাকা আসামিদের লক্ষ্য করে ধাওয়া দেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাধা প্রদান করে ভুক্তভোগীদের সরিয়ে দেয় এবং হাজতখানার প্রধান ফটক বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশের ওপর কোনো আক্রমণ বা আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা সফল হয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতা হইচই শুরু করে ফটকের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের নিরাপদে সরিয়ে দেয়।



