বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ত্বকের নানা জটিলতা দেখা দেয়। অতিরিক্ত ঘাম, তৈলাক্ত ভাব, ব্রণ, রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই মৌসুমেও ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিয়মিত ত্বকচর্চার পাশাপাশি কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের যত্নের রুটিনে আমূল পরিবর্তনও আনতে হতে পারে। নিচে পাঁচটি কার্যকরী পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

প্রথমত, আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্বকের যত্নের পণ্য নির্বাচন করা জরুরি। শীতকালে ব্যবহৃত ঘন ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকে ভারী অনুভূত হয়। তাই বর্ষাকালে হালকা জেল টাইপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত, যাতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও অ্যালোভেরার মতো উপাদান থাকে। এই ধরনের ময়েশ্চারাইজার ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং রোমকূপ বন্ধ করে না। দিনের বেলায় গোলাপ জল বা গ্রিন টি-ভিত্তিক ফেসিয়াল মিস্ট ব্যবহার করে ত্বক সতেজ রাখা যায়, যা তেল নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক এবং ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখে।

দ্বিতীয়ত, সানস্ক্রিন ব্যবহার একেবারেই বাদ দেওয়া উচিত নয়, এমনকি বাইরে রোদ না থাকলেও। ম্যাট ফিনিশ দেওয়া, তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য উপযোগী এসপিএফ ৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বের হওয়ার আগে দুই আঙুল পরিমাণ সানস্ক্রিন মুখে লাগানো উচিত এবং প্রতি দুই ঘণ্টা পর পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। ওয়াটারপ্রুফ ও রোমকূপ বন্ধ করে না এমন সানস্ক্রিনই সবচেয়ে কার্যকর।

তৃতীয়ত, ত্বক পরিষ্কার করার রুটিনে বিশেষ নজর দিতে হবে। সকালে ও রাতে দিনে দুইবার হালকা ফোমিং ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে ত্বকের ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও দূষণ দূর হয়। তবে অতিরিক্ত ক্লিনজিং বা জোরে ঘষামাজা করা ঠিক নয়, কারণ এতে ত্বক আরও বেশি তেল উৎপন্ন করে। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ল্যাকটিক অ্যাসিড বা ম্যান্ডেলিক অ্যাসিডযুক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করলে রোমকূপ পরিষ্কার থাকে এবং ত্বক মসৃণ হয়।

চতুর্থত, খাদ্যাভ্যাসেও সচেতনতা প্রয়োজন। আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি ঘাম হয়, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় শসা, লেবু, কমলা, পালং শাকের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কুরকুমিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত সাপ্লিমেন্ট ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পঞ্চমত, চুল যেন মুখের সংস্পর্শে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তৈলাক্ত চুল মুখের কাছে থাকলে তা অতিরিক্ত সিবাম জমিয়ে ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চুল বেঁধে রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজনে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু মুখের যত্ন নিলেই হবে না, বরং পুরো শরীরের পরিচর্যা করাটাই প্রকৃত সৌন্দর্যচর্চা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আর্দ্র আবহাওয়ায় সতেজ ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে নিয়মিত চর্চা ও সঠিক পণ্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ওয়েবএমডি।