আপনার চোখের সামনে কেউ যদি কান্নায় ভেঙে পড়েন, তবে তা দেখে অনেকেই বিপাকে পড়ে যান। ঠিক কী বলা উচিত বা কী করা উচিত, তা বোঝা দায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে প্রায়শই বলা হয় ‘কেঁদো না’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ বা ‘শক্ত হও, জীবন এমনই’—এই ধরনের বাক্য। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কথাগুলো বেশিরভাগ সময়ই ওই ব্যক্তির জন্য সহায়ক হয় না। বরং মানুষের আবেগকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর বেশি জোর দেন তারা।

তাহলে করণীয় কী? কাউকে কাঁদতে দেখলেই সমস্যা সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। ওই মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি। অনেক সময় মানুষ সমাধান নয়, বরং একজন মনোযোগী শ্রোতা চায়। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি তোমার পাশে আছি’, ‘তুমি চাইলে আমাকে বলতে পারো কী হয়েছে’, ‘তোমার যেমন লাগছে, এটা স্বাভাবিক’, ‘তোমার জন্য এটা নিশ্চয়ই খুব কঠিন’—এই ধরনের বাক্য অপর ব্যক্তিকে বোঝায় যে তার অনুভূতিকে আপনি গুরুত্ব ও স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, কী বলা উচিত নয়—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের কথাগুলো অনেক সময় উল্টো চাপ সৃষ্টি করতে পারে: ‘কেঁদো না’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’, ‘বিষয়টা এতটা খারাপ নয় যে এমন কাঁদতে হবে’, ‘শক্ত হও’, ‘ভুলে যাও’। এই বাক্যগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে অপর পক্ষের অনুভূতিকে ছোট করে দিতে পারে।

নীরবতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব সময় কিছু বলার প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো নীরবে পাশে বসে থাকা, চোখে চোখ রাখা বা (যদি সম্পর্ক অনুযায়ী উপযুক্ত হয়) একটি আলতো স্পর্শও বড় সমর্থন হতে পারে। প্রশ্ন করার সময় খুব বেশি জিজ্ঞাসাবাদ না করে খোলা মনে প্রশ্ন করাই ভালো। যেমন: ‘তুমি কি এটা নিয়ে কথা বলতে চাও?’, ‘এ মুহূর্তে তোমার কী দরকার বলে মনে হচ্ছে?’, ‘আমি কীভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি?’—এতে অপর ব্যক্তি নিজের মতো করে কথা বলার সুযোগ পায়।

যদি ব্যক্তিটি কথা বলতে না চান, তবে সবার কান্নার সময় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সে ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলা যেতে পারে, ‘ঠিক আছে। যখন কথা বলতে ইচ্ছা করবে, আমি আছি।’ এতে তিনি চাপ বোধ করবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত কথা বলার চেয়ে আন্তরিক উপস্থিতি বেশি মূল্যবান। এমনকি আপনি যদি শুধু বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না কী বলব, কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি’, সেটিও অনেক সময় গভীর সান্ত্বনা দিতে পারে।

সংক্ষেপে, কেউ কাঁদলে তাঁর কান্না থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং তাঁর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দিন। বিচার না করে শুনুন এবং পাশে থাকুন। মানুষ নিখুঁত পরামর্শ নয়, বরং আন্তরিক সহমর্মিতা মনে রাখে।