নিজের নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন জ্যাক ডেল। ৩০ বছরে পা দেওয়া এই তরুণ উদ্যোক্তা বেস পাওয়ার নামের একটি কোম্পানি পরিচালনা করছেন, যেটি বাড়ির ব্যাটারি ও প্রযুক্তি খাতে ১৩ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করেছে। তার বাবা মাইকেল ডেল বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি — গুগলের প্রতিষ্ঠাতাদের ঠিক পরেই এবং মার্ক জাকারবার্গের চেয়ে উপরে। তবে জ্যাকের ব্যবসা যে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়েছে তা নয়, বরং এর নিজস্ব আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক মডেল রয়েছে।
টেক্সাসে যাত্রা শুরু করে সম্প্রতি ইলিনয়ে সম্প্রসারণ করেছে বেস পাওয়ার। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ফরচুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যাক ডেল জানান, “আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার প্রতিটি পাড়ায় বেস পাওয়ার পৌঁছে দিতে চাই।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসিক খুচরা বিদ্যুৎ বাজার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের। এই বিশাল বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। ডেল আরও বলেন, “সুযোগের পরিধি বিশাল, এবং আমাদের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও রয়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য বাজারও আমাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।”
বাড়ির জন্য এক-স্টপ সেবা দিতে কাজ করছে বেস পাওয়ার। সাধারণ গ্যাস জেনারেটরের বদলে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই নিশ্চিত করে তারা। সাধারণত একটি ব্যাকআপ পাওয়ার ব্যবস্থা কিনতে ১৫ হাজার ডলার বা তার বেশি খরচ হয়। কিন্তু বেস পাওয়ার সেখানে বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে এবং ইনস্টলেশন ফি হিসেবে সর্বোচ্চ ৬৯৫ ডলার নেয়। এর সঙ্গে মাসিক ফ্ল্যাট সদস্য ফি ১৯ ডলার — যাকে কস্টকো মডেল হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে — এবং বিদ্যুতের মূল্য আলাদা। ডেলের দাবি, চাহিদা কম থাকার সময় ব্যাটারিগুলো গ্রিডে বিদ্যুৎ ফেরত দিয়ে অর্থ সাশ্রয় করায় তাদের বিদ্যুৎ চার্জ সাধারণত কম হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যাটারি (বা দ্বৈত-ব্যাটারি ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত ফি) বাতি জ্বালিয়ে রাখে — যদিও দুই বা তিন দিনের বেশি দীর্ঘ বিভ্রাট হলে সমস্যা হতে পারে।
২০২৩ সালে ডেল বেস পাওয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি সিরিজ ডি রাউন্ডে আরও ১ বিলিয়ন ডলার তুলেছে কোম্পানিটি, যার মাধ্যমে মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন এই রাউন্ডে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন এক বছরেরও কম সময়ে ৪ বিলিয়ন থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে — সাধারণ বিদ্যুৎ ব্যবসার জন্য যা অস্বাভাবিক, তবে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি স্টার্টআপের জন্য তা খুবই যুক্তিযুক্ত।
সিরিজ ডি রাউন্ডে চারটি সহ-মূল বিনিয়োগকারী ছিল — রিবিট ক্যাপিটাল, অ্যাডিশন, ভ্যালোর ইকুইটি পার্টনার্স এবং জেপিমরগান চেজের স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ। ডেল জানান, থ্রাইভ ক্যাপিটাল, এ১৬জেড, লাইটস্পিড, ট্রাস্ট ভেঞ্চারস, ক্যাপিটালজিসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য প্রধান বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরাও পুনরায় বিনিয়োগ করেছেন।
এর আগে এই বছর অস্টিন-আমেরিকান স্টেটসম্যান পত্রিকার সাবেক ভবনে নিজস্ব ব্যাটারি উৎপাদন কারখানা — বেস ফ্যাক্টরি ১ — চালু করেছে বেস পাওয়ার। সংবাদপত্রের জায়গায় প্রযুক্তি স্টার্টআপ স্থাপন প্রতীকী ও হতাশাজনক মনে হতে পারে, তবে তা নিয়ে ভাবার চেয়ে বড় কথা হলো, আরও বড় দ্বিতীয় কারখানার নির্মাণ চলছে এবং তা ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রশ্ন এখন মূলত কত দ্রুত বেস পাওয়ার জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও বাজার দখল করতে পারবে। একই সঙ্গে, অগ্রিম খরচ কম রেখে মাসিক ফি মডেলে কত দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি মুনাফার মুখ দেখবে তাও দেখার বিষয়।




