ছোট পর্দার পরিচিত মুখ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা, নিজের পছন্দের দল ও ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বীকার করেন যে ফুটবল সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান সীমিত, যতটুকু জানেন ততটুকুই উপভোগ করেন। বিশ্বকাপের সময় চারপাশে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তা তাঁর খুব ভালো লাগে, যদিও ফেসবুকে করা নানা মজার পোস্টের কারণে অনেকেই এখন আর বুঝতে পারেন না তিনি প্রকৃতপক্ষে কোন দলের সমর্থক।
তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁর বড় ভাইয়ের প্রভাবেই ব্রাজিলের প্রতি টান তৈরি হয়। তখন এলাকায় ব্রাজিলের সমর্থকই বেশি ছিল। দলটি এবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় অবশ্যই কিছুটা মন খারাপ হয়েছিল তাঁর, তবে তা নিয়ে আবার হাস্যরসাত্মক কিছু করার চিন্তাও মাথায় এসেছিল। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে রাত জেগে সব ম্যাচ দেখা সম্ভব হয় না; কেবল আগ্রহ জাগানো খেলাগুলোই তিনি দেখেন।
বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে হিমির সবচেয়ে পছন্দের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর চোখে এমবাপ্পে অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ও মানসিকভাবে শক্তিশালী একজন খেলোয়াড়। ব্রাজিল দলে ভালো খেলোয়াড় থাকলেও এবার তাঁদের পারফরম্যান্স তুলনামূলক দুর্বল লেগেছে তাঁর কাছে। অন্যদিকে এমবাপ্পের সার্বিক আধিপত্যশীল উপস্থিতি হিমিকে বেশি মুগ্ধ করে।
তবে এবারের আসরে ফুটবল নিয়ে পুরোপুরি ডুবে থাকতে পারেননি হিমি। দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি তাঁকে ভাবিয়েছে, এমন সংকটময় মুহূর্তে হয়তো আরও জরুরি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তাই রেফারির সিদ্ধান্ত বা পক্ষপাতিত্বের বিতর্কেও তিনি নিজেকে জড়ান না। দল বদলের প্রশ্নে হাসতে হাসতে জানান, আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ার পথে হাঁটেননি, তবে যে দলের খেলা ভালো লাগে তাদের সমর্থন করা যায়; খেলা মূলত উপভোগেরই বিষয়।
ছোটবেলা থেকেই তিনি গান, আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সক্রিয় ছিলেন, খেলাধুলায় তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। বর্তমানে অবসর কাটে জিমে শরীরচর্চা করে এবং বাড়ির বিড়ালদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, যেটাকে তিনি খেলাধুলা বলতে রাজি নন। একসময় ক্রিকেট খেলেছেন এবং গলফ শেখার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু সারাদিনের কাজের পর পর্যাপ্ত শক্তি থাকে না।
খেলা দেখার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হিমি বলেন, একা দেখার চেয়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একত্রে দেখা অনেক বেশি আনন্দের। তবে এবার ম্যাচগুলোর সময় গভীর রাতে হওয়ায় বেশিরভাগ খেলা একাই দেখতে হয়েছে, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে উপভোগ করতে হয়েছে। ব্রাজিলের বিদায় বা কটাক্ষে তাঁর কোনো খারাপ লাগে না, বরং স্পষ্ট স্বীকার করেন যে এবার ব্রাজিল সত্যিই ভালো খেলেনি।
ছোটবেলার বিশ্বকাপের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে হিমির কণ্ঠে আবেগের সুর ফুটে ওঠে। এলাকাজুড়ে তখন উৎসবের আমেজ থাকত, বাড়ির ছাদে বড় বড় পতাকা টাঙানো হতো— কে সবচেয়ে বড় পতাকা লাগাতে পারে তা নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা। ছোট ছোট কাগজ বা কাপড়ের পতাকায় ছাদ সাজানো সেই দিনগুলো এখন খুব মিস করেন তিনি।



