বিশ্বজুড়ে দর্শকহৃদয় জয় করা ২০১৬ সালের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘মোয়ানা’ বাস্তব অভিনয়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হলো। ১০ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই লাইভ অ্যাকশন সংস্করণটি পরিচালনা করেছেন টমাস কাইল। মূল অ্যানিমেশনে কণ্ঠদানকারী ডোয়াইন জনসন এবার পর্দায় স্বয়ং মাউই রূপে আবির্ভূত হয়েছেন, ফলে চরিত্রটির বলিষ্ঠ উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব অটুট থেকেছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় চরিত্র মোয়ানার ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন নবাগত ক্যাথরিন লাগাইয়া। বিশ্বব্যাপী ৩২ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নির্বাচিত এই তরুণ অভিনেত্রী তাঁর অভিনয় দক্ষতায় ইতিমধ্যেই নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। চলচ্চিত্রটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে তাঁর রূপায়নে মোয়ানার সাহসী, কৌতূহলী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক সাহসী কিশোরীর আত্মপরিচয়ের সন্ধান ও তার দ্বীপকে রক্ষার অভিযান। দ্বীপপ্রধানের কন্যা মোয়ানা শৈশব থেকেই সমুদ্রের প্রতি গভীর টানে অনুভব করত। বহুকাল আগে দেবতা মাউই দেবী টেফিতির জাদুকরি হৃদয়, একটি সবুজ পাথর, চুরি করে নেওয়ার পর গোটা পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে যায়। সেই অভিশাপ ক্রমে মোয়ানার দ্বীপেও আঘাত হানে। ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে সমুদ্র মোয়ানাকে নির্বাচন করে হৃদয়টি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দিয়ে।

নিজের নৌকা নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে মোয়ানা মাউইকে খুঁজে বের করে। পরবর্তীতে তাদের মুখোমুখি হতে হয় ভয়ংকর লাভা দানব টেকার। মাউইর সাথে যুদ্ধের এক পর্যায়ে তার অস্ত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মোয়ানা চরম বিপদের সম্মুখীন হয়। অবশেষে মোয়ানা উপলব্ধি করতে পারে যে এই লাভা দানবই প্রকৃতপক্ষে দেবী টেফিতি। মোয়ানা যখন হৃদয়টি ফিরিয়ে দেয়, তখন দেবী তার আসল রূপ ফিরে পান এবং সকল অভিশাপ দূরীভূত হয়। নিজ দ্বীপে প্রত্যাবর্তনের পর মোয়ানা তার জনগণকে আবারও সমুদ্রযাত্রায় নেতৃত্ব প্রদান করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের অ্যানিমেশনটি বক্স অফিসে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মোয়ানা ২’ এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বিপুল জনপ্রিয়তাকে আরও মজবুত করে। বিনোদনের পাশাপাশি মূল্যবান জীবনবোধের শিক্ষা দেওয়া এই চলচ্চিত্রটির নতুন রূপ দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।