নিজের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকলেও বড় কোনো দায়িত্বের প্রস্তাব এলে তা প্রত্যাখ্যান না করার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাকসেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী জুলি সুইট। সম্প্রতি ফরচুন ম্যাগাজিনের এক পডকাস্টে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি জেপি মরগ্যান চেজের সাবেক আর্থিক প্রধান দীনা ডাবলনের একটি উপদেশ মনে রেখেছিলেন। ডাবলনের মতে, যখন কাউকে একটি বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন যিনি সেই সুযোগ দিচ্ছেন তিনি নিজেও হয়তো সমান বা তার চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। তাই 'আপনি কি নিশ্চিত?'—এমন প্রশ্ন না করে বরং সুযোগটি গ্রহণ করা উচিত।

সুইটের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৪ সালের শেষের দিকে। তখন তিনি অ্যাকসেঞ্চারের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক নিয়মিত বৈঠকের শেষে তৎকালীন সিইও পিয়ের নান্টার্ম হঠাৎ তাকে বলেন, তিনি মনে করেন সুইট একদিন পুরো প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারবেন। ঐতিহ্যগতভাবে সিইও পদে ব্যবসায়িক পটভূমির লোকেরা থাকলেও সুইটের ছিল আইনি পটভূমি। প্রতিষ্ঠানটিতে আগে কখনো কোনো নারী এই পদে ছিলেন না এবং তিনি অ্যাকসেঞ্চারে পুরো ক্যারিয়ার কাটাননি। নান্টার্ম নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে সরাসরি জেনারেল কাউন্সেল থেকে সিইও হওয়া সম্ভব নয়, এর জন্য আগে অন্য কোনো বিভাগ পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

তবে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কাটিয়ে সুইট তখনই আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং নান্টার্মকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর কী পরিকল্পনা আছে। এর ফলেই ২০১৫ সালে তিনি উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান হন এবং ২০১৯ সালে বৈশ্বিক সিইও পদে আসীন হন। তিনি বিশ্বাস করেন, আত্মবিশ্বাস, বিনয় ও দক্ষতা—এই তিনটি গুণই একটি দলকে সফল করে তোলে। প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই প্রতিষ্ঠানে ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। সুইটের মতে, একটি দল তৈরি করার সময় ধরে নেওয়া চ্যালেঞ্জ করা, পরিবর্তনকে গ্রহণ করা এবং প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করা জরুরি। এতে বড় কৌশল নির্ধারণের জন্য থেমে থাকার প্রয়োজন হয় না, বরং সব সময় কৌশল নিয়ে কাজ করা যায়।

শীর্ষ পদে থাকার পরও প্রশ্ন করতে বা সাহায্য চাইতে দ্বিধা করেন না সুইট। তিনি এটিকে নিজের 'সুপার পাওয়ার' বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জন্য গভীর শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, যা অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় না। কারণ অনেক সময় সিনিয়র নেতারাই সব জ্ঞানের অধিকারী হন এবং তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ধারণাটি অদ্ভুত মনে হয়। আইনি বিভাগে নিজের প্রথম দিকের বছরগুলোতে তিনি প্রযুক্তি বিষয়ে খুব বেশি পারদর্শী ছিলেন না, তাই বারবার সাহায্য চাইতেন। তিনি দ্রুত বুঝতে পেরেছিলেন যে আইনি অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যবসায়িক নেতা হতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। এই স্বচ্ছতা এবং সাহায্য চাওয়ার দক্ষতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে এবং সিইও পদের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা বিশ্বাস তৈরি করে এবং প্রতিষ্ঠানে যত বেশি মূল্য যোগ করা যায়, তত বেশি ভালো পরবর্তী চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।