কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ভয়াবহ ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বিএনপির একজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জজ মিয়া (৫৫); তিনি ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট সকালে শিশুটি লাকড়ি শুকানোর জন্য বাইরে গিয়েছিল। সে সময় অভিযুক্ত জজ মিয়া তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে পাশের একটি জঙ্গলময় স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে আটক করেন। পরবর্তীতে জজ মিয়াকে শিশুটির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় স্থানীয়রা ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার উদ্যোগ নেন। তাঁরা শিশুটির পিতাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর পরেই তাঁরা অভিযুক্ত জজ মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে জজ মিয়া পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার রাতে বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জজ মিয়ার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য দলের সকল নেতা-কর্মীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতেন।
অন্যদিকে, কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জজ মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, যেকোনো সময় তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




