কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সীমান্ত অতিক্রম করে আসা অবৈধ মোবাইল ফোনের একটি বড় চালান উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় গ্রামে পরিচালিত যৌথ অভিযানে একটি বসতবাড়ির হাঁস-মুরগি পালনের স্থানে গোপনে লুকিয়ে রাখা ৫৫টি ভারতীয় চোরাই হ্যান্ডসেট জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে এনামুল হক ওরফে অন্তর (২৬) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযানটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাত নয়টা থেকে এগারোটা পর্যন্ত চলে। গোপন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে এই তল্লাশি চালায়। আসাদমোড়ের ওই বাড়িতে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মুরগির খামারের ভেতর অনুসন্ধান শুরু করেন। সেখানে গোপনে সঞ্চিত অবস্থায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যবহৃত স্মার্টফোন পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর মধ্যে আইফোন, মটোরোলা, অপো, রেডমি, রিয়েলমি এবং ভিভোর বিভিন্ন মডেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জব্দকৃত ফোনগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই অভিযানে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। পাশাপাশি বিজিবির ধলডাঙ্গা ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মো. মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সীমান্তরক্ষী দলের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এছাড়াও সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন, উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, আল-আমিন ও আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

আজ শুক্রবার সকালে থানার ওসি আজিম উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, ভারতীয় পণ্য চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসা সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আসাদমোড় এলাকায় চোরাই মোবাইল ফোনের কেনাবেচা হয়ে আসছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষত রংপুর ও ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এসব ডিভাইস সংগ্রহ করতেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের অপর প্রান্তে চুরি বা ছিনতাই হওয়া হ্যান্ডসেটগুলো একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হতো। পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দিয়ে অবৈধভাবে বিক্রি করা হতো। অনেক ফোনের বৈধ নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সেগুলো কালোবাজারিতে লেনদেন হতো। সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন বলেন, আসাদমোড় এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে চোরাকারবারিদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।