পলাতক অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. রায়হান। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’। দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, তাঁর লোকজন কারাগারে বন্দি থাকলেও তিনি একা হয়ে যাননি। পোস্টের শেষাংশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি রায়হান, মাথার খুলি উড়ায় ফেলব।’ বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তাঁর নতুন সহযোগীরা পুরোনোদের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠবে—এমন সতর্কবার্তাও পোস্টে দিয়েছেন তিনি। সেখানে আরও লেখা হয়েছে, ‘আমার মতো শত শত স্টোরে রায়হান পড়ে আছে। নতুনরা পুরোনোদের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। খেলার মাঠে আগেই পরিচয় পেয়েছ, আপডেট পাবে ইনশা আল্লাহ।’ পুলিশ জানিয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে এসব পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে রায়হানই ব্যবহার করছেন।

মো. রায়হান বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বড় সাজ্জাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেলে গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনাও ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩৫ বছর বয়সী এই রায়হান তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। একসময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। যদিও পুলিশের দাবি, ছদ্মবেশে তিনি চোলাই মদ বিক্রি করতেন। হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। কথায় কথায় গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সাজ্জাদ সম্প্রতি কারাগারে গেলেও তাঁর অস্ত্রভান্ডারের দেখভাল করছেন এই রায়হান—এমন তথ্যও দিয়েছে পুলিশ।

বড় সাজ্জাদের দলের আরেক সদস্য ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই রাতে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিনে মো. রায়হানকে ধরতে নোয়াখালীতেও অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন সেদিন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে নেমে পালান। ইমনকে গ্রেপ্তারের পরদিন ৩০ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানিয়েছিলেন যে রায়হানকে প্রায় ধরে ফেলা গিয়েছিল। ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন যে রায়হান জাহান্নাম না দেখলেও দোজখ দেখেছে। এরপর ৩ আগস্ট রায়হান তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দোজখ আর জাহান্নামে তফাত কী মাসুদ স্যার? ধন্যবাদ নোয়াখালীর...মানুষদের। তারা এমন নিকটভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।’

রায়হানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘পলাতক সন্ত্রাসী কত কথা বলবে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। রায়হানের পোস্টে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ এক বছরেই হত্যাসহ ১৩টি মামলার আসামি রায়হান দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, গুলিবর্ষণ ও অস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রভাব বিস্তৃত—সেখানে তারা যেন ‘রাজা’, এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে স্থানীয় সূত্রে। পলাতক রায়হানকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।