প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ ওরফে ইমনের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার রয়েছেন তাঁর মা নীলা চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি খল অভিনেতা ডিপজল, ডলি জহুর ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি শিবা শানুকে নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেন। গত ১০ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন হত্যা মামলার আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন। শোনা যায়, ডিপজলের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নীলা চৌধুরী বলেন, ডিপজলকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র জগতের মানুষ হিসেবে ডিপজলের অনেক কিছু জানার সুযোগ রয়েছে। ডন যে দেশ ছাড়ছিলেন, সেই তথ্যও তাঁর জানা ছিল। অপরাধী মনে না করলে তিনি ডনকে ধরিয়ে দিতেন না বলে নীলা চৌধুরী মন্তব্য করেন। তিনি ডিপজলকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি জোর দিয়ে বলেন, ইমনকে হত্যার সময় ডিপজলরা নিয়মিতভাবে সিনেমায় কাজ করছিলেন। তাই সিনেমার ভেতরের অনেক ঘটনাই তাঁদের জানা ছিল। যা-ই হোক, কিছু জেনে থাকলে সাক্ষী হয়ে কথা বলা উচিত। এটি মামলার তদন্তে সহায়ক হবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

ডলি জহুরের বিষয়ে নীলা চৌধুরীর অবস্থান আরও কঠোর। তিনি জানান, যেদিন ইমনকে হত্যা করা হয়, সেদিন ডলি জহুর ঘটনাটি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে তিনি এ নিয়ে কথা বলেছেন। সামিরার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের মাত্রা কতটুকু ছিল, তা বের করা জরুরি। প্রয়োজনে ডলি জহুরকে আসামি হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ডলি জহুর ও বাদল খন্দকার—এই দুজন অনেক কিছু জানেন। তাঁদের থেকে সত্য প্রকাশ পাওয়া উচিত। এদের অনেকেই সালমান শাহকে বিরক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রসঙ্গেও ক্ষোভ ঝাড়েন নীলা চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এফডিসিতে এসে ভোট দেন। ডনকে সেখানে অনেকেই সহায়তা করেছেন। শিবা শানুরা ডনকে বরণ করে নিয়েছিলেন। যেখানে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল, সেখানে নির্বাচনে ডনকে স্বাগত জানানো মানে এদের ছত্রচ্ছায়াতেই ডন অবস্থান করছিল। ডনকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ডনের গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মামা কুমকুমকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাইকে বহুদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এখন তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সালমানের ভক্তদেরও একইভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব হুমকির ছবি তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, হুমকি দিয়ে কোনো কিছু থামানো সম্ভব নয়। অবশিষ্ট আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

ভক্তদের উদ্যোগের বিষয়ে সাজিদ কামাল প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের প্রধান চাওয়া ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। হত্যা মামলার আসামি সামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাঁকেসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত আটক করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় দেশের ৬৪ জেলায় ভক্তরা আবারও মানববন্ধনের আয়োজন করবেন। গত শনিবার সালমান শাহ ভক্ত ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ৬৪ জেলার ভক্তরা প্রেসক্লাবের সামনে একত্রিত হয়ে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানান।