বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই স্পেন দলের গোলরক্ষক নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছিল। আর্সেনালের দাভিদ রায়া ও লা লিগায় ঝলমলে পারফরম্যান্স দেখানো হোয়ান গার্সিয়ার মতো প্রতিভাবান গোলকিপার থাকায় সেটি ছিল এক মধুর সমস্যা। তবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে কখনো দ্বিধায় ভোগেননি। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর হাতে বিশ্বের সেরা তিন গোলরক্ষক রয়েছেন এবং উনাই সিমনের অবস্থান অটুট। কোচের মতে, সিমন শুধু গোল বাঁচান না, তিনি স্পেনের খেলার ধারাই বহন করেন, খেলা গড়ে তোলেন।

সেই আস্থার প্রতিদান সিমন দিয়েছেন অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। গতকাল নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে জয় পায়। ফেরান তোরেসের গোলটি আসে ১০৬ মিনিটে। এই জয়ের মধ্য দিয়েই সিমনের হাতে উঠে আসে গোল্ডেন গ্লাভ। বিশ্বকাপের আসরে তাঁর সাতটি ক্লিন শিট একটি রেকর্ড, যা আগে কোনো গোলকিপার করতে পারেননি। তাঁর সেভের হার ছিল ৯১.৭ শতাংশ, যা আসরের সেরা।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল হজম করার আগে তিনি টানা ৬৪৯ মিনিট অক্ষত ছিলেন, যা আরেকটি বিশ্বকাপ রেকর্ড। পুরো আসরে স্পেন যে পরিমাণ গোল হজম করার কথা ছিল (এক্সপেক্টেড গোল), তার চেয়ে ০.৭ গোল কম হজম করেছে। আট ম্যাচে দলটি মাত্র একটি গোল খেয়েছে—এটি কোনো বিশ্বকাপজয়ী দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার রেকর্ড।

সংখ্যাগুলো চোখ ধাঁধানো হলেও সিমনের আসল গুণ তার প্রতিক্রিয়ার চেয়ে পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা। তিনি বিপদ তৈরি হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে মুছে ফেলেন। স্পেন ইচ্ছা করেই নিজেদের গোলপোস্টের সামনে চাপ আমন্ত্রণ জানিয়েছে, কারণ তারা জানে সিমন চাপকে ভয় পান না, বরং সেটাকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করেন।

সিমনের পাস দেওয়ার দক্ষতা স্পেনের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সাধারণ পাস দিয়ে তিনি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে পারেন। দে লা ফুয়েন্তে সিমনকে যুব কাঠামো থেকেই চেনেন এবং একসঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, উয়েফা নেশনস লিগ, ইউরো ২০২৪ এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছেন। এত সাফল্যের সঙ্গে কোনো গোলরক্ষকের সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব কম আন্তর্জাতিক কোচেরই আছে।

সিমনের ওপর কোচের আস্থা কখনো টলেনি, কারণ সিমন কখনোই সেই আস্থা ভঙ্গের সুযোগ দেননি। বিশ্বকাপের গল্প হয়তো রদ্রির গোল্ডেন বল, কুকুরেয়ার দৌড় বা কুবারসির তারুণ্যে লেখা, তবে তার শুরুটা হয়েছিল একেবারে পেছন থেকে—যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক লোক, যিনি নিঃশব্দে বিপদ মুছে ফেলতেন। সেই লোক উনাই সিমন।