মেজর লিগ বেসবল (এমএলবি) এবং খেলোয়াড়দের সংগঠনের (এমএলবিপিএ) মধ্যে চলমান আলোচনায় বেতন কাঠামো নিয়ে গভীর মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। লিগ কর্তৃপক্ষ ১৯৯৪-৯৫ সালের ধর্মঘটের পর প্রথমবারের মতো একটি কঠোর বেতন সীমা (স্যালারি ক্যাপ) চালু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ মৌসুমে সর্বোচ্চ বেতনসীমা হবে ২৪৫.৩ মিলিয়ন ডলার এবং সর্বনিম্ন ব্যয়সীমা (ফ্লোর) ১৭১.২ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে শীর্ষ ও নিম্ন বেতনের দলগুলোর মধ্যে ব্যয়ের ব্যবধান বর্তমানের ৪-৫ গুণ থেকে কমিয়ে ১.৪ গুণে আনা সম্ভব হবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি ন্যূনতম বেতন ২৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১ মিলিয়ন ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ৭৮০ হাজার ডলার থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
তবে খেলোয়াড়দের সংগঠন এই প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য কর (সিবিটি) ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর, কিন্তু কিছু মালিক রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থ দলকে প্রতিযোগিতামূলক করতে ব্যয় না করায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিচালক ব্রুস মেয়ারের নেতৃত্বে এমএলবিপিএ একটি বিকল্প 'প্রতিযোগিতামূলক অখণ্ডতা কর' চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যা কম ব্যয়কারী দলগুলোর ওপর আরোপিত হবে। তাদের প্রস্তাবে অন্তত ২৪০ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব নিশ্চিতকরণ এবং প্লে অফে যাওয়া বা বিজয়ী রেকর্ড রাখা দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
এমএলবি কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান বিলাসিতা কর ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং শীর্ষ ও নিম্ন বেতনের দলের মধ্যে ব্যবধান অত্যধিক। তবে এমএলবিপিএ-র বিশ্লেষণ বলছে, গত বছর লাক্সারি ট্যাক্স থেকে রেকর্ড ৪০২.৬ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হয়েছে, যার বড় অংশ ছোট বাজার দলগুলোর উন্নয়নে ব্যয়িত হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায় হয়েছে, যা রাজস্ব ভাগাভাগি ও খেলোয়াড়দের পেনশনে ব্যবহৃত হয়েছে। সংগঠনের যুক্তি, বর্তমান পদ্ধতিতেই ছোট বাজার দলগুলো ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিটি ছোট বাজার দলই কমপক্ষে দুবার প্লে অফে গেছে। গত চার মৌসুমে প্লে অফে যাওয়া দলের ৪৮ শতাংশই ছিল ছোট বাজার দল, যা ২০১৫-২০২১ সময়ের ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়েছে। কিন্তু ওয়ার্ল্ড সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রে বড় বেতনের দলগুলো এগিয়ে রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চারটির মধ্যে তিনটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ জিতেছে শীর্ষ ১০ বেতনের দল। শেষবার ছোট বাজার দল হিসেবে কানসাস সিটি রয়্যালস ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাপ ব্যবস্থা চালু হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য আসবে না। বর্তমান মাল্টি-ইয়ার চুক্তি বহাল থাকায় বড় বেতনের খেলোয়াড়দের বেতন বহাল থাকবে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য ও মালিকদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। প্রকৃত পরিবর্তন আসতে কয়েক বছর সময় লাগবে। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষ তাদের অবস্থান থেকে টলছে না। কমিশনার রব ম্যানফ্রেড ও ব্রুস মেয়ারের মধ্যে আলোচনা স্থবির। যদি ১ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি না হয়, তাহলে লকআউট অনিবার্য বলে ধরা হচ্ছে। তখন ২০২৭ মৌসুম শুরুর আগে চাপ সৃষ্টি হবে এবং বাস্তব সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।




