পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় তথ্যসংগ্রহকারী, সুপারভাইজার ও আইসিটি সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এক অভিযোগকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ১২টার পর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত ছিল বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের অনুসারীরা অপর পক্ষে। অন্যদিকে ছিলেন বাউফল পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের সমর্থকেরা।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিনটি পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১ হাজার ১৫৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষাটি ছিল ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ)।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ মিলনায়তন কেন্দ্রে অবস্থান করে পছন্দের প্রার্থীদের সহায়তা করার চেষ্টা করেন। তারা মুঠোফোন ব্যবহার করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান সাদিকুজ্জামান রাকিব, যার ভাই ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

ছাত্রদল নেতা সাদিকুজ্জামান অভিযোগ করেন, আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আকাশ তালুকদার দাবি করেন, পরীক্ষা শুরুর আগে তিনি শুধু পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে গিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বক্তব্য, পরীক্ষার সময় তাঁরা দুজন কক্ষের ভেতরে ছিলেন না এবং হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি মনে করেন, পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করতে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, পরীক্ষার শেষ দিকে আকাশ তালুকদার কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি নিষেধ করলে আকাশ তালুকদার জানান, কোনো সমস্যা হবে না। এর মধ্যে পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, কারও পক্ষে অবৈধভাবে পরীক্ষার কক্ষে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।