মেডিকেল স্কুলে দান করা মৃতদেহের অংশ কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি করতে ৫৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড) দিতে সম্মত হয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার বোস্টনের একটি আদালতে এই সমঝোতার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কার্যক্রম। অভিযোগ অনুযায়ী, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের (এইচএমএস) সাবেক মর্গ ব্যবস্থাপক সেড্রিক লজ মরদেহের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি করতেন। ২০২৫ সালে লজসহ তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই এই মামলাগুলোর নিষ্পত্তির পথ খোলে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মেডিকেল গবেষণার জন্য দান করা মরদেহগুলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনুশীলনের কাজে লাগানো হয়। ব্যবহার শেষে সেগুলো সাধারণত দাহ করা হতো এবং দেহাবশেষ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হতো অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কবরস্থানে সমাহিত করা হতো। এই প্রক্রিয়ার ফাঁক দিয়েই অপরাধটি সংঘটিত হয় বলে প্রসিকিউটররা অভিযোগ তুলেছেন।
৫৮ বছর বয়সী লজ পেনসিলভানিয়া ও ম্যাসাচুসেটসের ক্রেতাদের কাছে মরদেহের অংশ বিক্রি করতেন। গত ডিসেম্বরে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তার স্ত্রী এক বছর ও এক দিনের কারাদণ্ড পান। ২০২৩ সালে বেশ কয়েকটি দেওয়ানি মামলায় অভিযোগ আনা হয় যে, লজের এই অপকর্ম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই অবগত ছিল কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রথমে একটি রাজ্য আদালতের বিচারক মামলাগুলো খারিজ করে দিলেও গত বছর ম্যাসাচুসেটস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট সেগুলো পুনর্বহাল করে। সোমবার আদালতে হার্ভার্ড ও বাদীপক্ষ যৌথভাবে ৫৩ মিলিয়ন ডলারের এই শ্রেণি-অ্যাকশন সমঝোতা অনুমোদনের আবেদন জানায়।
হার্ভার্ডের মেডিসিন অনুষদের ডিন জর্জ ডেলি এবং মেডিকেল স্কুলের মেডিকেল শিক্ষার ডিন বার্নার্ড চ্যাং-এর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, 'লজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নৈতিকভাবে নিন্দনীয় এবং শারীরবৃত্তীয় দাতা ও তাদের প্রিয়জনদের প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এইচএমএস যে মানদণ্ড প্রত্যাশা করে, তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।'
এছাড়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বার্ষিক আর্থিক সহায়তা বৃত্তি চালু করবে মেডিকেল স্কুল, যা 'সকল শারীরবৃত্তীয় দাতার সম্মান ও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ' প্রদান করা হবে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে লজের সাজা ও এই সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হলেও 'এই বেদনাদায়ক ঘটনা থেকে পরিত্রাণের প্রক্রিয়া এখনও চলমান'।




