মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনে প্রবীণদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন এক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দেশটির ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ মানুষ বর্তমানে কর্মরত, যা একটি রেকর্ড সংখ্যা। দ্য হিল-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জন ম্যাক গ্লিওন এই প্রবণতাকে হতাশাজনক ও বাধ্যতামূলক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তাঁর মতে, এই বয়সী মানুষদের জীবনধারণের জন্য কাজ করতে হচ্ছে। তবে এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটি আসলে প্রবীণদের স্বাধীনতা ও সক্ষমতার প্রতীক।

বর্তমান সময়ের ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ ও সক্রিয়। তাঁদের অনেকেই অর্থের প্রয়োজনীয়তা থেকে নয়, বরং কাজের প্রতি আগ্রহ ও জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে কর্মক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছেন। অবসর বলতে এখন আর জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া বোঝায় না; বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে মানুষ নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমাজে অবদান রাখতে চান।

প্রবীণদের এই কর্মতৎপরতার পেছনে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে তাদের উদাসীনতাও একটি ইঙ্গিত বহন করে। ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা কমানো হতে পারে—এমন গুঞ্জন থাকলেও ৬৫+ বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তেমন কোনো আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ, ক্রমশ কম সংখ্যক মানুষ সম্পূর্ণভাবে এই ভাতার ওপর নির্ভরশীল। তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল, এবং কাজ থেকে প্রাপ্ত আয় তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করছে।

মজার বিষয় হলো, যিনি প্রবীণদের কর্মজীবনকে হতাশার চোখে দেখছেন, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীই আসলে একটি ইতিবাচক গল্প বলছে। কারণ তিনি একদিকে যেমন ৬৫+ বয়সীদের কর্মসংস্থানকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কারণে ব্যাপক বেকারত্বের আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, AI আসলে প্রবীণ কর্মীদের কাজকে আরও সহজ করবে। প্রযুক্তি তাদের কাছ থেকে ক্লান্তিকর ও কম পছন্দের কাজের অংশটা সরিয়ে নেবে, ফলে তারা আরও নিখুঁতভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারবেন।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ধারা ইতিবাচক। শ্রমবিভাগের সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। প্রবীণদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমাজ যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি তারা নিজেরাও আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন। আগামী দিনে ১ কোটি ১৬ লাখের এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি কেবল প্রবীণদের জন্যই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও একটি সুখবর।