ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার হিন্দু তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠে মন্দির সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে সোমবার ভোরে লাগা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে পৌঁছেছে। আহতদের অনেকেই রামপুরহাটের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার পর মঙ্গলবার তারাপীঠে জেলা প্রশাসনের এক নির্দেশে ১৫টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা, জরুরি বহির্গমন পথ সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং অন্যান্য নানা অনিয়মের কারণে এসব হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, আগে থেকেই এসব হোটেলকে নোটিশ দেয়া হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে 'বিদেশিনী' হোটেলের মালিকের ছেলেকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার হোটেলের মালিক প্রবীর কুমার পালককেও আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মেঘালয় রাজ্যে এবং বাকি চারজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। এই ঘটনায় ৪৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পবিত্র শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা এবং তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ভক্তদের অনেকেই স্থানীয় হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন। ভোর চারটার দিকে পাঁচতলা ওই হোটেলটিতে হঠাৎ চিৎকার শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুনে পুরো ভবনটি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হোটেলের সামনের অংশে অবস্থিত রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সম্মুখভাগ দিয়ে কেউ বের হতে পারেননি। পেছনের জরুরি বহির্গমন ফটকটি তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে অনেকেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলের পাশের পুকুরে মঙ্গলবার তল্লাশি চালিয়েছে সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। আগুনের সময় জীবন বাঁচাতে কেউ কেউ ব্যালকনি থেকে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল ডিফেন্স (দমকল) কর্তৃপক্ষ।




