রহস্য-সমাধানকারী মিসির আলির সামনে হাজির এক অদ্ভুত সমস্যা। মজিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ বিল দেখিয়ে জানতে চান, এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে সম্ভব! গত মাস পর্যন্ত তাঁর বিল আসত মাত্র আড়াইশো টাকা। কিন্তু এ মাসে বিল এসেছে ১৬ হাজার ৯২ টাকা। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখে স্তম্ভিত তিনি।
মজিদ মিয়ার অভিযোগ, বাড়িতে টিভি-ফ্যান সব বন্ধ থাকলেও বিল এত বেশি কেন হবে? তাঁর দ্বিতীয় পরিবারের সদস্য মাছ ছাড়া খেতে পারেন না, আর প্রথম পরিবারের জিভে গালি ছাড়া কথা জোটে না। তবে বিদ্যুৎ বিলের এই চরম উর্ধ্বগতি দেখে তিনি বাধ্য হয়েছেন মিসির আলির শরণাপন্ন হতে।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে মিসির আলি খেয়াল করেন, মজিদ মিয়ার চোখের পলক পড়ছে না। এই অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে তিনি ভাবতে শুরু করেন প্রকৃতির নানা রহস্য। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণিবিজ্ঞানী পল ওয়াটসনের গবেষণার কথা স্মরণ করেন, যেখানে প্রকৃতি মাঝে মাঝে প্রাণের মধ্যে নিজস্ব পরীক্ষা চালায়।
মজিদ মিয়া জানায়, তার প্রথম পরিবারের কারো চোখের পলক নেই বললেই চলে। কিন্তু মিসির আলি বুঝতে পারেন, এটা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। হঠাৎ করেই মিসির আলির নিজেরও চোখের পলক পড়া বন্ধ হয়ে যায়। তিনি চেষ্টা করেও পারেন না পলক ফেলতে।
শুকনো কাশিতে ভুগছেন মিসির আলি। এর মধ্যে এই নতুন রহস্য তাঁকে আরও বিভ্রান্ত করে। তিনি অবাক হয়ে দেখেন, মজিদ মিয়ার মতো তিনিও অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। দুজনের মাঝে যেন এক অদৃশ্য রুমাল ঝুলছে — ভুতুড়ে বিলের সেই রুমাল, যার অঙ্ক শুনলে মানুষের পলক ফেলার কথা মনে থাকে না।
এই অদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে কীভাবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে দুজনেই হতবাক। মিসির আলি বলেন, ‘আমি জানি না, আমরা আবার এ রকম বিল দেখে পলক ফেলতে পারব কি না! নাকি ধীরে ধীরে আমরা সবাই পলক ফেলা ভুলে যাব?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুজনেই অপলক তাকিয়ে থাকেন একে অপরের দিকে।




