দীর্ঘ বিরতির পর নাটকে ফিরে দর্শকদের প্রশংসা কুড়োচ্ছেন জাহিদ হাসান। সম্প্রতি প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্যারিয়ার, সমসাময়িক শিল্পী এবং নাটক-সিনেমার বর্তমান অবস্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মনজুরুল আলম।
চার বছর পর নাটকে ফিরলেও কেন নিয়মিত কাজ করছেন না— এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হাসান বলেন, তিনি চাইলেই তো আর সব কাজ করতে পারেন না। ভালো গল্প এবং শক্তিশালী চরিত্র না পেলে অভিনয় করে লাভ কী? তাঁর মতে, বর্তমানে সেভাবে মানসম্মত চিত্রনাট্য তৈরি হচ্ছে না।
'উৎসব' ছবির সাফল্যের পর আর সিনেমায় দেখা যায়নি তাঁকে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আসলে তো স্ক্রিপ্টই আসে না। আরেকটি সিনেমার জন্য তিনি সম্মতিও দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটির বর্তমান অবস্থা কী, সেটাও তিনি জানেন না। গত দুই বছরে নাটক-সিনেমা মিলিয়ে কতগুলো চিত্রনাট্য তাঁর কাছে এসেছে— এমন প্রশ্নে হাসিমুখে তিনি বলেন, সংখ্যাটা বলার মতো নয়। বলতে গেলে চিত্রনাট্যই আসেনি। হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন নাটকে না করায় অনেকে ধরে নিয়েছেন তিনি আর নাটকই করছেন না, ফলে চিত্রনাট্যও আসছে না। তবে তিনি ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভালো কাজের অভাবে মন খারাপ হয় কি না— জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন, জীবন তো আর সব সময় একরকম থাকে না। আগের মতো ভালো কাজের সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে। তাছাড়া চেনা সহশিল্পীরা অনেকেই নাটক থেকে সরে গেছেন। নাটকের জায়গাটাও আর আগের মতো নেই। এমন পরিস্থিতিতে চিত্রনাট্য না আসায় কিছুটা মন খারাপ হয় বৈকি, তবে এতে তাঁর হাত তো নেই।
বর্তমান প্রজন্মের তরুণ শিল্পীদের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান জানান, নতুনদের কাজ তিনি খুব বেশি দেখতে পান না। তবে মোস্তফা কামাল রাজের 'পথহারা মন' নাটকে খায়রুল বাসারের অভিনয় দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর মতে, ছেলেটির মধ্যে সম্ভাবনা আছে, তবে আরও বেশি নিবেদন দরকার। তিনি বলেন, ভালো শিল্পী তৈরি হতে হলে যেমন ভালো নির্মাতা প্রয়োজন, তেমনি অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে স্থিরতাও জরুরি। সব কাজ করতে গেলে চলবে না, বেছে নিতে হবে কোন কাজ করা উচিত আর কোনটা নয়। তবে এ জন্য তরুণদের দোষ দেওয়াও ঠিক নয়, কারণ ভিউয়ের চাপে অনেককেই বাধ্য হয়ে সব কাজ করতে হয়।
চরকির কার্নিভালে মোশাররফ করিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন জাহিদ হাসান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোশাররফ আমাদের দলেরই ছেলে। কেউ ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা উচিত। তাঁর সঙ্গে তো তাঁর কোনো প্রতিযোগিতা নেই, সেজন্যই ডেকে প্রশংসা করেছেন তিনি। কারও ভালো কাজ লুকিয়ে রাখা যে অপরাধ, সেটাও তিনি মনে করেন।
প্রশংসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জাহিদ হাসান বলেন, শিল্পীরা তো ফিডব্যাকের প্রত্যাশাতেই কাজ করেন। আলোচনা-সমালোচনা শিল্পীকে অনেক কিছু শেখায়। প্রশংসা একজন শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করে, তার কাজের গতি বাড়ায় এবং মানসিকভাবে তাকে খুশি রাখে।
নিজের সম্পর্কে বদনাম ছড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তিনি প্রায়ই শুনে থাকেন। কারও সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো মোটেও ঠিক নয়। কেউ যদি অসত্য তথ্য ছড়িয়ে আনন্দ পায়, তবে তাঁর বলার কিছু নেই। অনেক মিথ্যা কথা শুনে মাঝে মাঝে মন খারাপও হয়।
সামাজিক আয়োজন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ইচ্ছা করেই অনেক জায়গায় যান না, কারণ সেখানে যেতে তাঁর ভালো লাগে না। ফলে বাসাতেই বেশি সময় কাটে তাঁর। ব্যবসা দেখা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো— এভাবেই দিন কাটছে। সুস্থ থাকতে তিনি তেমন কিছু করেন না, শুধু হালকা ব্যায়াম করেন। পার্কে হাঁটাও এখন কম হয়। তবে নিজেকে আরও বেশি সময় দেওয়া উচিত, সেটা প্রায়ই মনে হয় তাঁর।




