গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্য একটি হাতির নিষ্ঠুর আক্রমণের শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে ‘রাজু বাহাদুর’ নামের একটি হাতি। গত ২৪ মে সংঘটিত এই ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও হাতিটির অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিনিয়তই দুর্বল হয়ে পড়ছে সে। এই পরিস্থিতিতে হঠকারী সিদ্ধান্ত এড়াতে এবং হাতিটির জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাতিটির মালিক মো. আতিকুর রহমান। তিনি মনে করছেন, হাতিটি শুধু তাঁর সম্পদ নয়, এটি গোটা দেশেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। হাতিটির সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। মালিক ইতোমধ্যে প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে হাতিটির সঠিক শুশ্রূষার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনটিতে হাতিটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতিটি প্রতিপালনে তাঁর আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আতিকুর রহমান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্রাই গ্রামে বসবাস করেন। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। বংশানুক্রমিকভাবে তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাতি লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে রাজু বাহাদুরসহ তাঁর পাঁচটি হাতি রয়েছে। তাদের মধ্যে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৪৩ বছর বয়সী মা হাতি চন্দ্রতারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে গেলে দেশটির বন বিভাগ সেটিকে আটকে রাখে। ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন আতিকুর। চন্দ্রতারার ফুলসুন্দরী, সুন্দরমালা ও রংমালা নামের আরও তিনটি সন্তান হাতি রয়েছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজু বাহাদুরকে উদ্ধার করে। তখন হাতিটি রাস্তা-ঘাট ও বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত হতো। উদ্ধারের পর সেটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হয়। রাজু বাহাদুরের বয়স প্রায় ১২ বছর। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ মে হাতিশালায় অন্য একটি হাতি তাকে আক্রমণ করে বসে। ধাক্কা লেগে সে মাটিতে পড়ে গেলে সামনের একটি পা ভেঙে যায় এবং অন্য পায়েও গুরুতর চোট লাগে। দুর্ঘটনার পরপরই একটি ক্রেন দিয়ে হাতিটিকে বালুর স্তূপের ওপর রাখা হয়। দেশীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। গত ৪ জুন শঙ্কাজনক অবস্থা দেখে থাইল্যান্ড থেকেও দুই বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসক ডেকে আনা হয়। তারাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, পার্কে মোট ১০টি হাতি রয়েছে। তার মধ্যে চারটি পুরুষ হাতি সবসময় শিকলে বন্দী থাকে। শৃঙ্খলমুক্ত স্ত্রী হাতিরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রায়ই পুরুষ হাতির কাছে চলে আসে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের আক্রমণ আগে থেকে আঁচ করার কোনো উপায় ছিল না। তবে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই মেডিকেল বোর্ড সক্রিয় হয়েছে। হাতিটিকে দুবার ক্রেন দিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সুস্থ হাতিদের তুলনায় রাজু বাহাদুর খাবারও কম খাচ্ছে। থাইল্যান্ডের চিকিৎসকরা দূর থেকেই পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।