উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ কোরিয়াকে মূল্য দিতে হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও সিউলের যৌথ মহড়া উত্তর কোরিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে। পিয়ংইয়ং এগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে উস্কানি হিসেবে দেখে থাকে। তবে এবারের মহড়া সংক্ষিপ্ত করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত কিমের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোটকে নিজেদের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখে। কিন্তু ট্রাম্পের নীতিতে ওই জোটের গুরুত্ব কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া বর্তমানে কৌশলগতভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় মনোভাব পিয়ংইয়ংকে আরও বেশি সুবিধা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড সিউলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়াকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সিউলে অস্বস্তি তৈরি করছে।

মহড়া শেষ হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। তবে কেন আগে শেষ করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ট্রাম্পের কিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তারই অংশ।

উত্তর কোরিয়া অবশ্য এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই ইঙ্গিতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পিয়ংইয়ং আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘নতুন ধরনের সম্পর্ক’ গড়তে আগ্রহী, যদি ওয়াশিংটন ‘শত্রুতামূলক নীতি’ পরিহার করে।

এদিকে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এমন উদ্যোগ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটি যেমন ঝুঁকি তৈরি করবে, তেমনি জাপানসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও নিশ্চয়তার অভাব দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক কৌশল এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।