যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মীদের দফতরে ফিরিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সংস্থার (ওপিএম) পরিচালক স্কট কুপোর নিজেই বাড়ি থেকে কাজ করার সময় এমন একটি ভিডিও ধারণ করেছেন যাতে মনে হয় তিনি দফতরে বসেই কাজ করছেন। ফরচুন ম্যাগাজিন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট সংস্থার এক সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কুপোর মন্তব্য করেন যে, তিনি তার শয়নকক্ষ থেকে ভিডিওটি বানিয়েছেন এবং ফাঁকা সাদা দেওয়ালের এমন একটি কোণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন যেটি দেখে কেউ বুঝতে না পারে যে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন। ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে কুপোরকে বলতে শোনা যায়, "আমি আমার বেডরুমে ছিলাম, কিন্তু আমি চেষ্টা করছিলাম— কারণ আমি জানতাম কেউ না কেউ আমাকে টিপ্পনী কাটবে যদি তারা জানতে পারে যে আমি অফিসের বাইরে ছিলাম।" তিনি আরও বলেন, "আমি এমন কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলাম যা দেখে বোঝা না যায় যে এটি আমার বাড়ির ভেতরকার অংশ। তাই আমি সাদা দেওয়ালের একটি সাধারণ কোণ খুঁজছিলাম, যা খুঁজে পাওয়া মোটেও সহজ ছিল না।" কুপোরের এই মন্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফরচুনের এক সূত্র।
ওপিএমের কমিউনিকেশনস টিমের সদস্য কিকি ন্যোহ কুপোরের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ওই দিন পরিচালক দফতরের বাইরে ছিলেন এবং তাকে টেলিওয়ার্কিং হিসেবে গণ্য করা হবে না। ন্যোহ জানান, কুপোর দিনরাত কাজ করেন, ছুটির দিনেও তিনি কর্মব্যস্ত থাকেন। তিনি আরও বলেন, ওপিএম উচ্চ-কর্মক্ষমতাসম্পন্ন কাজের সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার এবং ফেডারেল কর্মীবাহিনীতে যোগ্যতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম কার্যদিবসে ২০২৫ সালে জারি করা নির্বাহী আদেশে সব সংস্থাকে দূরবর্তী কাজের ব্যবস্থা বাতিল করে কর্মীদের পূর্ণকালীনভাবে দফতরে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঠানো এক ইমেইলে তৎকালীন ওপিএম ভারপ্রাপ্ত পরিচালক চার্লস এজেল জানান, ৩ মার্চ থেকে ওপিএম কর্মীদের দফতরে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ৫০ মাইল দূরত্বের মধ্যে বসবাসকারী কর্মীদের জন্যও একই নির্দেশনা প্রযোজ্য। ওপিএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ফেডারেল কর্মীদের পূর্ণকালীন টেলিওয়ার্ক ও দূরবর্তী কাজের সময় ৭৫ শতাংশের বেশি কমেছে। সূত্র জানিয়েছে, ওপিএম এখনো আগে দূরবর্তীভাবে কাজ করা কর্মীদের শারীরিকভাবে দফতরে ফেরানোর জন্য ব্যবস্থাপনা-নির্দেশিত পদায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপিএমের দায়িত্বে থাকা কুপোর আগেও এক ব্লগ পোস্টে বলেছিলেন, এমন কাজও যা মূলত একা করলে দূরবর্তীভাবে করা সম্ভব, সেখানেও বাড়ির নানা বাধা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। "বিশাল এই দূরবর্তী কর্মীবাহিনীকে তত্ত্বাবধান করার মতো সক্ষমতা ফেডারেল সরকারের নেই," তিনি লিখেছিলেন। অ্যান্ড্রিসেন হরোউইটজের সাবেক ব্যবস্থাপনা অংশীদার কুপোর ১৬ বছর ওই প্রতিষ্ঠানে ছিলেন এবং ২০০৯ সালে মার্ক অ্যান্ড্রিসেন ও বেন হরোউইটজের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনে সিলিকন ভ্যালির আরও কয়েকজন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী যোগ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের এআই নীতি উপদেষ্টা শ্রীরাম কৃষ্ণান এবং ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা গ্রেগরি বারবাচিয়া।
ফেডারেল কর্মীদের মধ্যে অবশ্য সরকারের এই দফতরে ফেরার নির্দেশনার প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। ফেডারেল নিউজ নেটওয়ার্কের ২০২৬ সালের জরিপে ৭ হাজার ৪৬৩ জন কর্মীর মধ্যে ৫৩ শতাংশের বেশি বলেছেন, দফতরে ফেরার পর তাদের সামগ্রিক কাজের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত নেতিবাচক হয়েছে; আরও ৩০ শতাংশ এটিকে কিছুটা নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। মাত্র ১৭ শতাংশ কর্মী অভিজ্ঞতাটিকে কিছুটা বা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন, আর ১০ শতাংশ নিরপেক্ষ বা অনিশ্চিত। প্রায় ৯৩ শতাংশ কর্মী বলেছেন, দফতরে ফেরার পর থেকে তাদের কর্ম-জীবনের ভারসাম্য "আগের চেয়ে অনেক খারাপ" বা "কিছুটা খারাপ" হয়েছে। একজন জরিপে অংশ নেওয়া কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন, "কখনো কি এমন সময় আসবে যখন কর্মীদের কথা আবার ভাবা হবে?" এই ঘটনা দফতরে ফেরার সরকারি নীতির নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যারা এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিচ্ছেন তাদের নিজেদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।




