কানাডায় উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করল দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। স্টাডি পারমিটের আবেদনে এখন শুধু প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ থাকলেই হবে না, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তা প্রমাণ করাও বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা পড়া, লেনদেনে অসামঞ্জস্যতা বা অর্থের উৎস সম্পর্কে দুর্বল নথি থাকলে অভিবাসন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তবে নতুন এই নির্দেশনায় স্টাডি পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগে শুধুমাত্র 'অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ' থেকে আসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক যাচাইয়ের সুপারিশ ছিল, যা এখন আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রযোজ্য হবে বলে জানা যাচ্ছে। অ্যাপ্লাইবোর্ডের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্প্রতি ১ হাজার ৩৭০টি স্টাডি পারমিট প্রত্যাখ্যানের চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট প্রত্যাখ্যানের ৪৭ শতাংশের পেছনেই ছিল পর্যাপ্ত আর্থিক প্রমাণ না থাকা। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকলেও তা উপস্থাপনের পদ্ধতি ছিল দুর্বল, যা কর্মকর্তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আবেদনপত্র শক্তিশালী করতে শিক্ষার্থীদের গ্যারান্টিড ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট (জিআইসি), ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং স্পনসরের চাকরির প্রমাণপত্র ও তিন মাসের বেতন স্লিপ জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপ্লাইবোর্ড। ব্যাংকে বড় অঙ্কের অর্থ জমা হলে তার লিখিত ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্ডারপাসের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নতুন স্টাডি পারমিটের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। তবে এই সময়ে সামগ্রিক অনুমোদনের হার ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে আর্থিক নথিপত্র প্রস্তুতিতে আবেদনকারীদের আরও সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বর্ডারপাস। বিশেষ করে আফ্রিকার উদীয়মান শিক্ষাবাজার থেকে শিক্ষার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সহায়তা জরুরি বলে মনে করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুধু বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়োগের বদলে যাদের স্টাডি পারমিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফলে কানাডায় পড়তে যেতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এখন শুধু টাকা জোগাড় করাই যথেষ্ট নয়; সেই অর্থের বৈধ উৎস, ব্যাংক লেনদেনের ধারাবাহিকতা এবং সঠিক নথিপত্রের মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।