রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ক্যাম্পাসে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ‘ভালোবাসায় বাড়ানো হাত’ শীর্ষক বই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউআইইউর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া বিদেশি লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও বন্ধুদের অবদান নিয়ে লেখা বইটি নিয়ে এই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বইটির লেখক ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইউআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য অধ্যাপক মো. ফৈয়াজ খান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম মিয়া সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম।
এই প্রতিযোগিতায় ইউআইইউর ইংরেজি বিভাগ, পরিবেশ ও উন্নয়ন অধ্যয়ন (ইডিএস) বিভাগ এবং মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম (এমএসজে) বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, নিজস্ব উপলব্ধি এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা উপস্থাপন করে। বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী মিয়াজী হোসাইন আবরার, দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন একই বিভাগের ফারহানা ফাইজা এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন ইডিএস বিভাগের মাশরাফি কামাল। প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ল্যাপটপ, দ্বিতীয় হিসেবে একটি মনিটর এবং তৃতীয় হিসেবে একটি হেডফোন প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তিনটি করে বই এবং সনদ দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর বইয়ের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং বইটি লেখার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ কেবল জ্ঞান অর্জন করে না, বরং সমাজ, মানুষ ও জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। তরুণ প্রজন্মের চিন্তাশক্তি, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বিকাশে বই পড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক মো. ফৈয়াজ খান তাঁর বক্তব্যে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস এবং পাঠ-পর্যালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। নিয়মিত বই পড়া তরুণদের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করতে এবং মননশীলতা বিকাশে সহায়তা করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, বই মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিল্পী সাফওয়ানা নাওয়ার প্রতীক্ষা জর্জ হ্যারিসনের বিখ্যাত ‘বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করেন। এছাড়া জোয়ান বায়াজের ‘সং অব বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করেন শিল্পী ব্যামি রহমান। অনুষ্ঠানে গীতিকার ও সুরকার কবির বকুল, স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শামীম হুসাইন, লেখক ও সাংবাদিক রাহিতুল ইসলাম, অনলাইন বুকশপ প্রথমা ডটকমের সমন্বয়ক রাসেল রায়হান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমা ডটকম ও স্কিলআপার অনুষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে ছিল।




