গুগল আর্থের ওয়েব সংস্করণে ‘ন্যানো বানানা ২’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল উন্মুক্তের কিছুক্ষণ পরই তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীরা এই টুলের অপব্যবহার শুরু করলে বৃহস্পতিবার চালুর দিনেই এটিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
টুলটির মূল কাজ ছিল লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন উপাদান জুড়ে দিয়ে কোনো একটি স্থানের দৃশ্য সম্পূর্ণ বদলে ফেলা। গুগল জানায়, এই সুবিধা পৃথিবীকে নতুন রূপে কল্পনা করতে কিংবা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের চিত্র পুনর্নির্মাণে সহায়তা করতে পারত। তবে চালুর সঙ্গে সঙ্গেই এর অপব্যবহার শুরু হয়, যার ফলাফল হিসেবে সংবেদনশীল ও ভুল তথ্যবাহী ছবি তৈরি করা হতে থাকে।
এআই বিশেষজ্ঞ হেঙ্ক ভ্যান এস জানান, পরীক্ষামূলকভাবে টুলটি ব্যবহার করে তিনি ইরানের একটি পরমাণু কেন্দ্র ও গাজার একটি হাসপাতালের পাশে বোমার আঘাতের গর্তযুক্ত নকল স্যাটেলাইট ছবি বানিয়েছেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমানায় অভিবাসীদের ঢল নামার দৃশ্যও কৃত্রিমভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ ধরনের চিত্র সহজেই সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে সক্ষম। ভ্যান এস মনে করিয়ে দেন, বিগত দুই দশক ধরে গুগল ভৌগোলিক তথ্যের একটি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, যা মানুষ সত্য যাচাইয়ের কাজেও ব্যবহার করে। কিন্তু এই টুলের মাধ্যমে এখন সেখানে বাস্তবে বিদ্যমান নয়, এমন দৃশ্যও সৃজন করা সম্ভব হতো।
শুধু ভ্যান এস নন, আরও বহু ব্যবহারকারী স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কল্পিত স্যাটিলাইট চিত্র তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মতো একটি বিমান আঘাত হানার আগে মুহূর্তের ভুয়া ছবি। অথচ এসবের কোনোটিরই কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
গবেষক, নগর-পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য টুল হিসেবে গুগল আর্থ ব্যবহার হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে বতমান ও অতীতের স্যাটেলাইট ডেটা মিলিয়ে নগরায়ণ বা পরিবেশগত রূপান্তর বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু সেই একই প্ল্যাটফর্মে বাস্তবসম ভুয়া দৃশ্য তৈরির ক্ষমতা থাকলে তা ভুল তথ্যের বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে গুগল নিশ্চিত করেছে, ভৌগোলিক তথ্য দেখার জন্য মানুষ গুগল আর্থের ওপর বিশেষ আস্থা রাখে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ নতুন টুলটি ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করেছিলেন, এআই দ্বারা তৈরি কিছু স্ক্রিশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যা কোম্পানির নীতিমালার পরিপন্থী। তাই আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এআই টুলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।




