যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০০টি শহরের উপনগর এলাকায় ড্রোন চালিত শিপিং সেবা সম্প্রসারিত করার ঘোষণা দিয়েছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় বছরের শেষ নাগাদ আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ ছোট ও হালকা ওজনের প্যাকেজ ড্রোনের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। অ্যামাজনের দাবি অনুযায়ী, এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে তাদের অর্ডার করা পণ্য হাতে পেতে পারেন। তবে এই ড্রোনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ পাউন্ড পর্যন্ত ওজনের পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে দ্রুততম সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লড়াইয়ে অ্যামাজন এবং ওয়ালমার্টের মধ্যকার প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে ডেলিভারির জন্য ড্রোন এবং মানবচালিত যানবাহনের সমন্বিত ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। অ্যামাজনের এই নতুন পরিকল্পনার ফলে তাদের ড্রোন কার্যক্রম দেশব্যাপী ছয় গুণের বেশি বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে শিকাগো, আটলান্টা, ক্লিভল্যান্ড এবং বোয়াসির মতো বড় মেট্রো এলাকাগুলোর উপনগরী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষ সতর্কতার খাতিরে এই ড্রোনগুলো মূলত উপনগর এলাকায় উড়বে, যাতে আকাশচুম্বী অট্টালিকা বা বড় বিমানবন্দরের কারণে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।
দ্রোন ডেলিভারির জনপ্রিয়তা বাড়লেও সামগ্রিক শিপিং ব্যবস্থায় এর অবদান এখনও সীমিত। চলতি বছরে ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ প্যাকেজ ড্রোনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হলেও, অ্যামাজনের বার্ষিক কোটি কোটি ডেলিভারির তুলনায় এটি খুবই সামান্য অংশ। এছাড়া ৫ পাউন্ডের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ড্রোনের জন্য উপযুক্ত অবতরণস্থল খুঁজে পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গাছের ডালপালা, বাগানের নকশা কিংবা ইনফ্ল্যাটেবল পুলের মতো বাধাগুলো এই প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। সেই সাথে প্রতিটি কমিউনিটিতে স্থানীয় নিয়মকানুন এবং ড্রোনের শব্দজনিত সমস্যা মোকাবিলা করা অ্যামাজনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিটেইল অ্যানালিস্ট সুচরিতা কোদালি মনে করেন, এটি এখনও একটি পরীক্ষামূলক পর্যায়। শুরুতে কৌতূহলবশত গ্রাহকরা এই সেবা ব্যবহার করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর গ্রহণযোগ্যতা এবং অর্থনৈতিক লাভজনকতা কতটুকু হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে জরুরি ওষুধ বা হালকা ওজনের প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এই সেবাটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। উল্লেখ্য যে, ডোরড্যাশ সহ অন্যান্য ডেলিভারি কোম্পানিগুলোও বর্তমানে খাবার ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহে ড্রোন ব্যবহারের পরীক্ষা চালাচ্ছে।
অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জাসি তার বার্ষিক চিঠিতে জানিয়েছেন, অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, নেব্রাস্কা এবং টেক্সাসের ১১টি সাইটে ড্রোন উড়িয়ে তারা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। প্রতিটি ড্রোন অ্যামাজন গুদাম থেকে যাত্রা করে প্রায় ১৭৫ বর্গমাইল এলাকা কভার করে। জাসির লক্ষ্য অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ ৩ কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়া এবং এই দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন প্যাকেজ ডেলিভারি করা।
ডেলিভারির গতি বাড়াতে অ্যামাজন কেবল ড্রোনের ওপর নির্ভর না করে তাদের গুদাম এবং ছোট ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) থেকে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি পেয়েছে অ্যামাজন এবং পাইলটের দৃষ্টিসীমার বাইরে ড্রোন চালানোর বিশেষ অনুমতিও লাভ করেছে। আকাশপথে সংঘর্ষ এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। যদিও দিগন্তের বাইরে ড্রোন চালানোর বিষয়ে ফেডারেল সরকারের প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সেবাটির মূল্যকাঠামোয় বলা হয়েছে, অ্যামাজন প্রাইম সদস্যরা ৫০ ডলারের বেশি কেনাকাটা করলে ড্রোন ডেলিভারি বিনামূল্যে পাবেন, তবে ছোট অর্ডারের জন্য ২.৯৯ ডলার দিতে হবে। প্রাইম সদস্য নন এমন গ্রাহকদের জন্য এই সেবার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.৯৯ ডলার।




