মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা পঞ্চম দিনের মতো অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতি ভারী বৃষ্টির মাত্রা ৮৮ মিলিমিটারের বেশি ধরা হয়। সকালে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আকাশে ঘন কালো মেঘ থাকায় যেকোনো সময় আবার বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কমে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে ডুবে থাকায় সাধারণ মানুষ অফিস-আদালত ও কর্মস্থলে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনেও অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
টানা ভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে মোট ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার ভোরে বান্দরবানের লামার মিশনপাড়ায় দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য পাহাড়ধসে নিহত হন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে এক কিশোরী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহতদের বেশির ভাগই শিশু।
অন্যদিকে, রেললাইন ডুবে থাকায় আজও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেলপথ পানিতে নিমজ্জিত। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সরলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে বৃষ্টি আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।




