বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে একটি মেয়েদের ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাত জন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিকালে পাহাড় ধসে স্কুলটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও ভেতরে কতজন ছিল তা স্পষ্ট নয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ১৩ জনকে কাদা ও মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি পাঁচজন আহতকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা পান্না আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, মৃত শিক্ষার্থীদের বয়স সাত, আট, এগারো ও বারো বছরের মধ্যে ছিল।
গত রোববার থেকে কক্সবাজারে টানা মৌসুমী বৃষ্টি পড়ছে। এর ফলে এলাকায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার থেকে এ পর্যন্ত পৃথক ভূমিধসে আরও অন্তত আটজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং সাত লাখের বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী বসতি।
মিয়ানমারে নাগরিকত্ববঞ্চিত এই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে ত্রিপল ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ঘরে খাড়া পাহাড়ের ওপর বসবাস করছে। তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্বিষহ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আবারও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্বল জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।




