চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিলাসের আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কোম্পানির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ৭৬৯ কোটি টাকা থেকে ৮৫ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ কম।
শুধু ব্যবসার পরিমাণই সংকুচিত হয়নি, বরং মুনাফার পরিবর্তে কোম্পানিকে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখেও পড়তে হয়েছে। গত বছরের প্রথম ছয় মাস যেখানে ২২ কোটির বেশমি টাকা লাভ হয়েছিল, সেখানে এবারের এই মেয়াদ শেষে তাদের লোকসান হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই পতনের হার ১৫০ শতাংশেরও বেশি।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই শোচনীয় ফলাফলের পেছনে দুটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। একদিকে বিক্রিতে ধস, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৮৪ কোটি টাকার পণ্য বিক্রির জন্য কোম্পানিকে উৎপাদন খরচ গুনতে হয়েছে ৬৩৮ কোটি টাকা, যা মোট বিক্রির ৯৩ শতাংশের সমতুল্য। আগের বছর একই সময়কালে ৭৪৭ কোটি টাকার বিক্রির বিপরীতে এই খরচ ছিল ৬৭৬ কোটি টাকা, অর্থাৎ বিক্রির ৮৮ শতাংশ।
কোম্পানির পক্ষ থেকে এই অবনতির নেপথ্যে নির্মাণ খাতের স্থবিরতাকে দায়ী করা হয়েছে। কোম্পানি সচিব সুলতান রিয়াজ মাহমুদ এক ব্যাখ্যায় বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বছরের শুরুতেই সিমেন্টের চাহিদা ছিল নিম্নমুখী। চাহিদা কমায় উৎপাদনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়েছে। সেই সাথে পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিকভাবে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়।
তবে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, দেশের অবকাঠামো খাতের গতিশীলতাই তাদের পুনরুত্থানের মূল চাবিকাঠি। সুলতান রিয়াজ মাহমুদের ভাষ্য, ‘সিমেন্টের বাজার সম্পূর্ণরূপে অবকাঠামো খাতের ওপর নির্ভরশীল। দেশের সার্বিক অবকাঠামো কার্যক্রমে গতি ফিরলে আমরা আমাদের ব্যবসার চাকা ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী।’
এদিকে, সবশেষ প্রকাশিত ত্রৈমাসিক তথ্যেও হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। এপ্রিল-জুন সময়কালে, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে পড়ে, কোম্পানিটির বিক্রি দাঁড়ায় ৩২১ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই প্রান্তিকের ৩৪০ কোটি টাকা থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ কম। এই প্রান্তিক শেষে তাদের লোকসান হয়েছে ৬ কোটি টাকা, যেখানে গত বছরের একই মেয়াদে তারা ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছিল।




