সোমবার (২৭ জুলাই) শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে এ দিন ধার্য করা হয়। নির্ধারিত দিনে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। দুদকের জিআর শাখার কর্মকর্তা আক্কাস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন, যা গত বছরের ১৭ জুন রুজু হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন করে বাজারে গুজব ছড়িয়ে কারসাজি চালানো হয়। এভাবে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা তুলে নেওয়া হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ. মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম। দুদক সূত্র জানায়, আসামি আবুল খায়ের তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎস গোপন করার চেষ্টা করেন। তার ১৭টি ব্যাংক হিসাব ও ৫৪২ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে দুদকের হটলাইন ১০৬ উদ্বোধন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে নানা বিতর্কের কারণে ২০২২ সালে তার সঙ্গে করা সেই চুক্তি আর নবায়ন করেনি দুদক।



