রাজশাহী থেকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের হেতেম খাঁ এলাকায় নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে এই প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলামের (মিলু) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নজরুল হুদা।
বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন, রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর হওয়ায় এখান থেকে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্যত্র সরানোর সিদ্ধান্ত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা হ্রাস পাবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা আরও জানান, রাজনৈতিক প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রাজশাহীবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। দাবি পূরণ না হলে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
মানববন্ধন শেষে নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আফাজ উদ্দিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের সংবাদে রাজশাহীবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে ১৬ জুলাই নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে মতামত চাওয়া হয়েছে। এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়ার সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম নেসকো বগুড়ায় স্থানান্তরের জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।




