গাজা সংকট নিরসনে সম্প্রতি ঘোষিত চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের বিরোধিতার মধ্যে পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিল হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শক ও জামাতা জ্যারেড কুশনার আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রতিষ্ঠিত 'বোর্ড অফ পিস'-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে কুশনার, বোর্ডের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ নিকোলে ম্লাদেনভ এবং নির্বাহী বোর্ড সদস্য ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে প্রতিনিধি দলটি কায়রোর উদ্দেশে রওনা দেবে। মিশরের রাজধানীতে গত কয়েক মাস ধরেই ফিলিস্তিনের একটি টেকনোক্র্যাট গোষ্ঠীর বৈঠক চলছে — মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজার দায়িত্ব নেওয়ার কথাই যাদের। সফরসূচির চূড়ান্ত রূপ নিয়ে কাজ এখনো চলমান থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, বৈঠকগুলোর মাধ্যমে ট্রাম্প ও বোর্ড অফ পিসের লক্ষ্য স্পষ্ট হবে — হামাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকৃত গাজায় 'শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই নিরাপত্তা' প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অঞ্চলটির পুনর্গঠন শুরু করা যায়।
তবে এই উদ্যোগের পথ কিন্তু মসৃণ নয়। হামাসকে নিরস্ত্র করার এবং গাজার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তা ইসরায়েল সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরল প্রকাশ্য মতানৈক্য দেখা দিয়েছে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে। হামাস তাদের অস্ত্রভাণ্ডার বিলুপ্ত করার প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন — হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল এই চুক্তিকে। গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে এটি দাঁড়িয়েছিল, যে চুক্তির ফলে বড় সামরিক অভিযান থেমেছিল এবং গাজায় আটক বাকি জিম্মিদের মুক্তি এসেছিল। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে সেই চুক্তি এখন থমকে আছে। এই পটভূমিতেই কুশনার-ব্লেয়ারদের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




