মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটের আকস্মিক বিদায় ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের জন্য প্রেস সেক্রেটারির পদটি মামুলি মনে হতে পারে, কারণ তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি নিজের বক্তব্য পৌঁছে দিতে দক্ষ। কিন্তু লেভিটের চলে যাওয়া তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরামর্শক দলে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করল। দ্বিতীয় মেয়াদে সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিতের ভূমিকাকে যেভাবে ক্ষুণ্ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, সেই কৌশলের নেতৃত্বে ছিলেন লেভিটই।
গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, সংসার ও এত বড় দায়িত্ব একসাথে সামলানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেভিট ভবিষ্যতে বাইরের একজন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর প্রশংসা করে বলা হয়েছে, তিনি তার মনের ভাষা বুঝতেন এবং নীতিগত অবস্থানগুলো নির্ভয়ে তুলে ধরতেন।
লেভিটের ব্রিফিংগুলো কখনোই শুধু নীতি ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের এক প্রদর্শনী। রক্ষণশীল টেলিভিশনের রাতের টক শোর আদলে তার উপস্থাপনা সমর্থকদের মনে দাগ কাটলেও সমালোচকদের চোখে তা ছিল ‘বিকল্প তথ্য’ পরিবেশনের একটি মাধ্যম। তার মেয়াদকালে ট্রাম্পের আদেশে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন তিনি। এমনকি সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী পুল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে ট্রাম্পপন্থী পডকাস্টার ও স্থানীয় রেডিও উপস্থাপকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ করে দেন।
তবে ক্যামেরার আড়ালে তার এই কঠোর ভঙ্গি ছিল না; সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতেন এবং প্রেসিডেন্টের পূর্ণ আস্থার পাত্রী ছিলেন। ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ মনে করেন, লেভিটের পদত্যাগের কারণ হিসেবে পারিবারিক যুক্তি সত্য হতে পারে, কিন্তু ট্রাম্পের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করতে গেলে প্রতিদিন বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রয়োজন হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া তার জন্য হয়তো স্বস্তির।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কি নতুন কাউকে এই দায়িত্ব দেবেন নাকি নিজেই সামলাবেন? এখনও কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে তিনি নিজেই হয়তো এই পদে থাকবেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের এই সংঘাতমূলক সম্পর্ক এবং নীতির আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে নতুন কারও পক্ষে লেভিটের মতো দক্ষতা দেখানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবুও ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে লেভিট চিরকাল একজন ‘হিরোইন’ হয়েই থাকবেন, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।




