গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) রাজধানী কিনশাসার অদূরে কঙ্গো নদীতে একটি নদীবাহী নৌকাকে আটক করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ইংফেং 2 নামের জাহাজটির সকল আরোহীর ইবলা ও কলেরা শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালাচ্ছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বেন্দে বেন্দে বন্দরের কাছে, কিনশাসা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উজানে নৌকাটিকে আটক করা হয়। এটি পরিচালনা করছিল একটি চীনা প্রতিষ্ঠান।

এক যাত্রীর মৃত্যুর পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা। তিনি জানান, মোঙ্গালা প্রদেশে নৌকা থেকে নেমে যাওয়ার এক যাত্রী জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনার পর আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক, এক তিন বছর বয়সী ও এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) যৌথ দল নৌকায় উঠে একটি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার স্থাপন করেছে। তারা দ্রুততার সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। কাম্বা সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেন, “এখন পর্যন্ত কেউই পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়নি, এবং ২১ দিনের সুপ্তিকাল শেষ হওয়ার পর সম্ভবত কেউ পজিটিভ হবেন না।”

তিনি আরও জানান, নৌকাটি ২২ দিন পূর্বে উত্তর-পশ্চিম ডQR কঙ্গোর মোঙ্গালা থেকে রওয়ানা দিয়েছিল। পূর্ববর্তী কিছু প্রতিবেদনের বিপরীতে সেখানে কোনও ইবোলা রোগী পাওয়া যায়নি। অসুস্থ যাত্রীটি মোঙ্গালার পিমু স্বাস্থ্য এলাকায় চিকিৎসা নেওয়ার আগে নৌকাতেই বেশ কয়েকদিন ভ্রমণ করছিলেন।

যাত্রা করে নৌকাটি প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার ভাটি দিয়ে কিনশাসার দিকে আসছিল। নিরাপত্তা বাহিনীকে ডব্লিউএইচওর মান অনুযায়ী ইংফেং ২ কে তীরের বাইরে নির্জনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাজধানীতে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা প্রতিহত করা যায়। জনস্বাস্থ্য দলগুলো জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে থেকে দেশটি ১৭ তম ইবলা প্রাদুর্ভাবে ভুগছে। এবারের প্রাদুর্ভাবটি বান্ডিবুগিও নামক এক বিরল প্রজাতি ভাইরাসের জন্য সৃষ্ট, যা এক দশকের বেশি সময়ে দেখা যায়নি। এই প্রজাতিটির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ওষুধ কিংবা টিকা নেই, যদিও যুক্তরাজ্যে প্রথম মানবিক পরীক্ষা চলছে। প্রাদুর্ভাব ঘোষণার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু ক্রমাগত বাড়ছেই।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এখন পর্যন্ত ৩,৯৭৩টি নিশ্চিত সংক্রমণ ঘটেছে এবং ১,৮০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দ্বিতীয় ভয়াবহতম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ইবালা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ১৭,০০০-এর অধিক ব্যক্তি নজরদারিতে রয়েছেন। পাঁচটি প্রদেশে ৬৭৪ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন এবং ৭৭৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

কিনশাসাতে বান্ডিবুগিও প্রতিরোধে প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে। শহরের মূল প্রবেশপথ মালুকুতে নজরদারি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আবারও নিশ্চিত করেছেন যে গৃহীতব্যবস্থাগুলো সাবধানতামূলক, তবে এগুলো পরিস্থিতির গম্ভীরতাকেই তুলে ধরছে।