টানা ৩৯ দিন, ১০৪টি ম্যাচ আর ৩০৮ গোলের পর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে। এবারের আসরে বড় তারকারা নিজেদের সেরা খেলা উপহার দিয়েছেন। বিশ্বকাপ শেষে এখন সবার নজর ক্লাব ফুটবলের দিকে। কে কোথায় খেলবেন, কী লক্ষ্য—সে খোঁজ পাওয়া যাবে এই প্রতিবেদনে।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি (৩৯) টানা দ্বিতীয়বার দলকে ফাইনালে তোলেন। নিজে ৮ গোল করলেও ফাইনালে ম্লান থাকায় স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস মৌসুম শুরু করেছেন। ২২ জুলাই শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে জয় পেলেও মেসি ছিলেন না। ২৬ জুলাইয়ের ম্যাচে ফিরতে পারেন। ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর মায়ামিকে এমএলএস কাপ জিতিয়েছেন; এবার শিরোপা ধরে রাখাই লক্ষ্য।
সবচেয়ে বয়সী তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১) নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রেকর্ড গড়েন। তবে পর্তুগাল শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয়। সৌদি আরবের আল নাসরে খেলা এই ফরোয়ার্ড গত মৌসুমে লিগ জিতেছেন—২০২৩ সালে সেখানে যাওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম বড় শিরোপা।
ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে (২৪) এক আসরে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের (৭টি) রেকর্ড গড়েছেন, ভেঙেছেন পেলের ৬ অ্যাসিস্টের কীর্তি। বায়ার্ন মিউনিখে হ্যারি কেইনদের সঙ্গে আক্রমণভাগ সামলাবেন তিনি। গত মৌসুমে লিগ জিতলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ অধরা; এবার সেটাই মূল টার্গেট। তবে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে।
স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন (২৯) পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোল হজম করে বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়েই খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি; লা লিগাতেও সেই ফর্ম ধরে রাখতে চান।
গোল্ডেন বল জয়ী রদ্রি (৩০) স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক। কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করলেও নিখুঁত বুদ্ধির জোরে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ম্যানচেস্টার সিটিতে নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে প্রিমিয়ার লিগ মাতাবেন।
স্পেনের লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেয়া (২৮) ইউরোর পর বিশ্বকাপেও প্রতিপক্ষকে নাচিয়ে দিয়েছেন। চেলসি ছেড়ে সদ্য রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন; লা লিগায় নতুন ক্লাবে দাপট দেখানোই মিশন।
সেরা তরুণ খেলোয়াড় পাউ কুবারসি (১৯) স্পেনের ডিফেন্সে নিখুঁত ট্যাকল ও পাসিংয়ে চোখ কেড়েছেন। বার্সেলোনার রক্ষণভাগের ভবিষ্যৎ মনে করা হয় তাঁকে; ইয়ামালদের সঙ্গে নিয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের লক্ষ্য।
বিশ্বকাপের অন্যতম বড় সারপ্রাইজ কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। স্পেন ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অসাধারণ সেভ করে মন জয় করেন; চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে কোনো গোল হজম করেননি। তিনি এখন চিলির কোলো-কোলোতে খেলেন।
কিলিয়ান এমবাপ্পে (২৭) ১০ গোল করে ছুঁয়েছেন গার্ড মুলারের রেকর্ড। ফ্রান্স সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রিয়াল মাদ্রিদে গত মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করলেও সময়টা ভালো কাটেনি; এবার নিজেকে গোট (GOAT) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
নরওয়ের আর্লিং হলান্ড (২৫) বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৭ গোল করেন। দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ব্রাজিলকে হারানোর সাফল্য ছিল বড়। ম্যানচেস্টার সিটিতে পঞ্চম মৌসুমে মোট ১৬২ গোল করে ফেলেছেন; নতুন কোচের অধীনে আরও গোলমেশিন মোডে থাকবেন।
লামিন ইয়ামাল (১৯) স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজে মাত্র ১ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করলেও দলগত পারফরম্যান্সে ভূমিকা ছিল বড়। বার্সেলোনায় তাঁর অপূর্ণতা চ্যাম্পিয়নস লিগ; এবার সেটাই লক্ষ্য।
ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম (২৩) ৭ গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তোলেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে একক চেষ্টায় গোল করেছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদকে হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে।
হ্যারি কেইন (৩২) ৭ ম্যাচে ৬ গোল করে ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর সেরা সাফল্য—তৃতীয় স্থান এনে দেন। বায়ার্ন মিউনিখে গত মৌসুমে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন; এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মূল অস্ত্র তিনি।
ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে (২৯) পুরো বিশ্বকাপে ৬ গোল করেন, যার মধ্যে হ্যাটট্রিকও ছিল। পিএসজিতে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন।




