উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। গত মঙ্গলবার বোস্টন স্টেডিয়ামে মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফরাসিরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছাল। এই জয়ের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি নিজের অষ্টম গোল করে এখন লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। টানা দুটি আসরে আটটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি, যা ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাইলফলক।

সেদিন গ্যালারিতে বসে এই ম্যাচ উপভোগ করেছেন আঁতোয়ান গ্রিজমান। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়া এই তারকা এখন খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব অরল্যান্ডো সিটিতে। তাঁর সামনেই ফ্রান্সের তরুণ বাহিনী মরক্কোর রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এর তিন বছর আগে অবশ্য ফরাসি ফুটবলের রাজদণ্ড কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। উগো লরিসের অবসরের পর স্বাভাবিক নিয়মে অধিনায়ক হওয়ার কথা ছিল গ্রিজমানের। কিন্তু কোচ দিদিয়ের দেশমে সবাইকে চমকে দিয়ে সেবার আর্মব্যান্ড দেন সদ্য ২৪-এ পা দেওয়া এমবাপ্পেকে। গ্রিজমান নিজেই পরে স্বীকার করেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত গিলতে তাঁর কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বোস্টনের মাঠে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব দেখে বোঝা যায়, সেই বিতর্ক এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।

বর্তমানে ফ্রান্সের দলটি বেশ তরুণ। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দল থেকে এই স্কোয়াডে টিকে আছেন মাত্র দুজন—উসমান দেম্বেলে ও এমবাপ্পে নিজে। চোটের কারণে নেই এনগোলো কান্তে, লুকাস এরনান্দেজের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। তাই এমবাপ্পেকে শুধু গোলদাতা হিসেবে নয়, বরং তরুণদের মেন্টর ও পথপ্রদর্শক হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। কারও কারও চোখে এই দলটি পূর্ববর্তী দুই আসরের চেয়েও ভয়ংকর। কিন্তু এমবাপ্পে নিজে সেরা দলের উপাধি নিতে নারাজ।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে তিনি বলেন, 'আমি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, রানার্সআপও হয়েছি। এই দল আমার খেলা সেরা ফরাসি দল নয়, তবে সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।' তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, কেবল ক্ষমতা দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। ইউরো ২০২০-এ সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে সতর্ক থাকতে শিখিয়েছে। নিজেদের অজেয় দাবি করার আগে প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এমবাপ্পে এখন ফ্রান্সের বর্মে পরিণত হয়েছেন। তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক নন, তবে তিনি এমন একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা যায়। বিশ্বকাপের আসর শেষ না হতেই স্পষ্ট, এমবাপ্পে ফরাসি ফুটবলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়কেই এক সুতোয় বাঁধতে চান।