মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি আয়োজিত হবে। ইতোমধ্যে ম্যাচের টিকিটের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে অসাধারণ আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনার কুখ্যাত উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী 'বারা ব্রাভাস'-এর সদস্যরা ম্যাচ দেখতে আটলান্টায় যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির সরকার। ইউরোপীয় 'আল্ট্রাস' গোষ্ঠীর মতো আচরণের জন্য পরিচিত এই দলটির স্টেডিয়ামের বাইরে ও গ্যালারিতে প্রতিপক্ষ সমর্থক ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ানোর ইতিহাস রয়েছে। মাদক ব্যবসা এবং টিকিট কালোবাজারির সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এফবিআই, ফিফা এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা যৌথভাবে ম্যাচের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সমর্থকদের যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা সরকার। তাদের বিশেষ নিরাপত্তা কর্মসূচি 'ফ্যালকন অ্যালার্ট'-এর আওতায় আগে শুধুমাত্র স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ কোনো সমর্থক দেশ ত্যাগ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাগতিক দেশকে সতর্ক করা হতো। এখন এই তথ্য সরাসরি পৌঁছাবে আর্জেন্টিনার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা–সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক ফ্রাঙ্কো বার্লিনের কাছে। তিনি বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। ফলে বার্লিন নিজেই যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করতে পারবেন।
আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু সুপারিশও দিয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে। এর মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রবেশদ্বারগুলোয় কঠোর নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েনের প্রস্তাব। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা সরকার ৩৫ হাজার আর্জেন্টাইন নাগরিকের একটি তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


