বিশ্বকাপ ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী পর্বে এক চমকপ্রদ দৃশ্যের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মঞ্চে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন বা কোনো ধরনের অভিবাদন বিনিময় থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন।
অনুষ্ঠানের ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, রোমেরো প্রথমে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু তার ঠিক পরেই অবস্থান করা ট্রাম্পকে তিনি উপেক্ষা করে চলে যান। এদিকে আর্জেন্টিনা ও চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের অন্যান্য সদস্যরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেই কুশল বিনিময় করেছেন। ট্রাম্প শুধু খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দেননি, পাশাপাশি অনেকের সঙ্গে করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত কথোপকথনও সারেন।
পরে তিনি ফিফা প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে স্পেনীয় অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন। ট্রফি হস্তান্তরের পর বিজয়ী দলের উল্লাস শুরু হলে ট্রাম্প তখনও মঞ্চের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফলে স্পেনের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবিতে তিনিও ফ্রেমবন্দী হয়ে যান।
উল্লেখ্য, পুরস্কার বিতরণে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি পূর্বপরিকল্পিতই ছিল। ফিফা সভাপতি গত ২৩ জুন জানিয়েছিলেন যে তাঁরা দুজনে মিলে যৌথভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। পূর্ববর্তী আসরগুলোতে সাধারণত ফিফা সভাপতি এককভাবে ট্রফি প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ভূমিকা অবশ্য দর্শকদের একটি বড় অংশ পছন্দ করেননি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য তিনি মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারির বিশাল সংখ্যক দর্শক দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করেন।
এবারের বিশ্বকাপের পুরো সময়কালে এই প্রথম ট্রাম্প স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলেও, প্রতিযোগিতাজুড়ে নিজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। শেষ ষোলোর পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্প সরাসরি ফিফাকে ফোন করেছিলেন। পরবর্তীকালে ফিফা শাস্তি স্থগিত করলে তাঁর এই হস্তক্ষেপ নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা আসরটির সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়।




