নগদহীন লেনদেনের বিস্তারের সাথে সাথে মানুষের মানিব্যাগে টাকার চেয়ে প্লাস্টিকের কার্ডের প্রাধান্য বেড়েছে। 'এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন' বা বিনা সুদে কিস্তির সংস্কৃতি সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষ মডেলের ফোন বা বিলাসী ভ্রমণকে সহজলভ্য করে তুলেছে। ইসলামি দৃষ্টি থেকে এই প্রবণতাকে 'প্রগতিশীল লাইফস্টাইল' হিসেবে নয়, বরং একের পর এক ঝুঁকির সিঁড়ি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর স্তরটি মৃত্যুর পর শুরু হয়। হাদিসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না ঋণ পরিশোধ করা হয়, ততক্ষণ মুমিনের আত্মা ঋণের বোঝায় আটকে থাকে। এমনকি আল্লাহর পথে শহীদ হয়েও ঋণের দায় থেকে মুক্তি মেলে না। তাই নিছক শখ পূরণের জন্য নেওয়া ঋণ আখিরাতের পথেও বাধা সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় স্তরটি হলো অপচয়। ঋণের টাকা হাতে এলে নগদ টাকা খরচের কষ্ট অনুভূত না হওয়ায় মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করে ফেলে। পবিত্র কোরআনে মধ্যপন্থায় ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কেনাকাটার মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়। কেয়ামতের দিন প্রতিটি টাকার হিসাব দিতে হবে বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
তৃতীয় স্তরটি অধিকতর গুরুতর—সুদ। বিনা সুদে ইএমআইয়ের লোভনীয় অফারগুলি অল্প সময়ের মধ্যে চক্রবৃদ্ধি সুদে পরিণত হয়। কোরআনে সুদ নেওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এই কঠোর ভাষা অন্য কোনো পাপের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি। ফলে বন্ধুদের কাছে বাহবা পাওয়ার তুচ্ছ কারণে একজন মানুষ নিজের অজান্তেই মারাত্মক গুনাহের মধ্যে পড়তে পারে।
সবচেয়ে হালকা হলেও প্রথম স্তরটি হলো মিথ্যা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে। কিস্তি পরিশোধের সময় এলে অজুহাত তৈরি করা বা পরিবারের কাছে প্রকৃত খরচ লুকানো—এসব ছোট ছোট মিথ্যা মানুষকে ধীরে ধীরে অসৎ করে তোলে। এখান থেকেই শুরু হয় পাপের সিঁড়ি।
বিশ্লেষণে শেষ পর্যন্ত বলা হয়েছে, ঋণ করে শখ পূরণ সাময়িক তৃপ্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আত্মার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। সমাধান হলো নিজের সামর্থ্যের মধ্যে সন্তুষ্ট থাকা এবং ঋণকে শুধুমাত্র প্রকৃত প্রয়োজনেই সর্বশেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা।



