সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভক্তদের উলুধ্বনি, শঙ্খ ও কাশরের ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকার মন্দিরপ্রাঙ্গণ। এই উপলক্ষে কোথাও কোথায় গ্রামীণ মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি এলাকায় শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের হয়। দুপুরে এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি আলোচনা সভায় বলেন, মানিকগঞ্জের মানুষের মধ্যে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই; এখানে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে সাত দিনের অস্থায়ী মেলা বসেছে। ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে।

নওগাঁয় শহরের কালীতলা এলাকায় শ্রীশ্রী বুড়া কালীমাতা মন্দির কমিটির উদ্যোগে রথযাত্রা বের করা হয়। সকাল ১০টায় কাঠহাটি মাঠ থেকে প্রথম টানের মাধ্যমে শুরু হয়ে রথটি বুড়া কালীমাতা মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন। ৯ দিনব্যাপী এই উৎসবে হরিনাম সংকীর্তন, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ ও মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন রয়েছে। মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় গ্রামীণ মেলা বসেছে, যেখানে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও শিশুদের খেলনা বিক্রি হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান।

শ্রীমঙ্গলে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে আরোহণ করিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা হয়। শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আখড়া ও ইসকন পৃথকভাবে দুটি রথযাত্রার আয়োজন করে। ভক্তরা ভক্তিগীতি ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে রথের দড়ি টেনে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। রথযাত্রা উপলক্ষে হবিগঞ্জ সড়কে ঐতিহ্যবাহী মেলা বসেছে, যেখানে মাটির তৈরি সামগ্রী, খেলনা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান রয়েছে।

রাঙামাটিতে সকালে মঙ্গলারতি, ভাগবত পাঠ ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুরের পর থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দর্শনার্থীরা মূল উৎসব প্রাঙ্গণে সমবেত হন। বর্ণিল সাজে সজ্জিত বিশাল রথ টানতে হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এর আগে শ্রীশ্রী রাধা রাসবিহারী ধাম ও গৌরনিতাই আশ্রমে আলোচনা সভায় বক্তারা রথযাত্রার তাৎপর্য ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন।

শেরপুরে সকালে গোপাল জিউর মন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হয়। ভক্তরা রশি ধরে রথ টেনে নয়আনী বাজার এলাকার কালীমাতার মন্দিরে নিয়ে যান, পরে সেটি আবার গোপাল জিউর মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সহযোগিতায় গোপাল জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটি এ আয়োজন করে। উৎসব উপলক্ষে গৃদানারায়ণপুর এলাকার নরসিংহ জিউর মন্দির ও গোপাল জিউর মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। নয়আনী বাজার এলাকায় দিনব্যাপী মেলা বসে।

বগুড়ার শেরপুরে শহরের জগন্নাথপাড়া মহল্লায় শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির কমিটি রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করে। বেলা সোয়া একটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি সমীর কুমার কুণ্ডু। অতিথি ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। রথযাত্রা উপলক্ষে মন্দিরের সামনে ও পাশের শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাইস্কুল খেলার মাঠে মেলা বসে। মেলায় হরেক রকমের নাড়ু ও মৌসুমি ফল ছিল প্রধান আকর্ষণ। স্থানীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব কুণ্ডু ও শান্ত সান্যাল জানান, আট দিনব্যাপী এই উৎসবকে ঘিরে দুই দিন মেলা বসে। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, রথযাত্রা ও মেলা চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।