মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। 'দ্য হিউ হিউইট শো'-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পিক্যাক্স মাউন্টেন নামক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই স্থাপনা 'গুঁড়িয়ে দিতে' যাচ্ছে এবং ইরানের কর্তৃপক্ষকে এর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা উচিত। তার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো যখন গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় ফর্দো কেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা প্রায় দুই বছর পিছিয়ে যায়।
পিক্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা। পাহাড়ের অভ্যন্তরে গভীরে খনন করে তৈরি এই কমপ্লেক্সটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা বেশ কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, পিক্যাক্স মাউন্টেন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০৮ মিটার উঁচু। এর ভেতরে পাহাড়ের অন্তত ১০০ মিটার গভীরে দুটি বড় সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স অবস্থিত। পূর্ব দিকের সুড়ঙ্গপথটি চূড়া থেকে ১৪৫ মিটার এবং পশ্চিম দিকেরটি ১০০ মিটার নিচে অবস্থিত, যা থেকে ধারণা করা হয় স্থাপনাটি একাধিক তলাবিশিষ্ট।
যদিও ইরান সবসময় জোর দিয়ে বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ ভিন্ন। তাদের মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেন একটি গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ২০২০ সালে এই জায়গায় নির্মাণকাজ শুরু হয়, তবে তেহরান দাবি করে যে এটি কেবল উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কাজে লাগানো হবে। আইএসআইএস-এর মতে, ছোট কমপ্লেক্সটি ২০০৭ সালে তৈরি করা হয়, পরে তা সম্প্রসারণ করে আরও মজবুত করা হয়। তবে গত বছরের জুনের হামলার পর স্থাপনাটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
ট্রাম্প তার সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে যা মহাকাশ থেকেও পিক্যাক্স মাউন্টেনের প্রতিটি কোণ নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তিনি বলেন, 'আমরা সেখানে কোনো নড়াচড়া দেখছি না, তবে যদি কিছু হয়, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেব।' বর্তমানে সহজলভ্য স্যাটেলাইট চিত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মকাণ্ড দেখা না গেলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান তার সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করলে পিক্যাক্স মাউন্টেনকে অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব। পাহাড়ের নিচের বিশাল খালি জায়গাটি অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও সমাবেশের জন্যও যথেষ্ট বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




