যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটররা বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিল, ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ), নিয়ে বিতর্ক শুরু করার প্রস্তাবে বাধা দিয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৬ ভোটে পরাজিত হয়। বিতর্ক শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের মধ্যে তারা পৌঁছাতে পারেনি। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিলটি অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ল।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প যখন ইরানে যুদ্ধ জোরদার করছেন, তখন কংগ্রেসের এই বিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার দলীয় সদস্যদের বিলটির বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বিল ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের তদারকি ছাড়াই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ‘ছাড়পত্র’ দেবে।
একদল ডেমোক্র্যাট সিনেটর, যাদের মধ্যে ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচ রয়েছেন, গত সপ্তাহে সহকর্মীদের একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলেন, সিনেটের ডেমোক্র্যাটদের এমন কোনো ভোট দেওয়া উচিত নয় যা ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উৎসাহিত করবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বিলটি পেন্টাগনের জন্য ‘অস্বাভাবিকভাবে বড়’ বাজেট অনুমোদনের পথ খুলে দেবে এবং ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে না। ভোটের আগে ক্রিস ভ্যান হলেন এক ভিডিওতে দাবি করেন, ইসরায়েল-সংক্রান্ত কিছু ধারা নীরবে বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়েছে।
কংগ্রেসের বাইরে নাগরিক স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধবিরোধী ১৪টি সংগঠনের একটি জোটও বিলটির বিরোধিতা করে। তারা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে ‘অননুমোদিত’ আখ্যা দিয়ে বলে, যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের এই অবস্থান দলটির ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর জুনে প্রকাশিত এক জরিপ অনুসারে, চলতি বছরের মে মাসে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৫৯ শতাংশ।



