ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য জ্বালানি রপ্তানি সুবিধা দেওয়া সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি সুবিধা হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ বিপর্যস্ত হতে পারে।

এর আগে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে। মার্কিন বাহিনী ২০টি যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক শত উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে। সোমবার থেকে শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় অসংখ্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা টানা সাত ঘণ্টা ধরে চলে। সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করা। মার্কিন দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার অভিযোগ এনেছে। এর মধ্য দিয়ে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হুতিরা ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ। এখন সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়ে হুতিরা বলেছে, বাব-এল-মান্দেব বন্ধ করে দিলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তারা দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। এই নতুন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।